কুড়ি বছরের এক তরুণী। বিয়ে হয়ে গিয়েছে, এক হাতে ছোট্ট শিশু, অন্য হাতে নিট-এর মোটা বই। সংসারের কাজের ফাঁকে দিনরাত চলছে অঙ্ক, রসায়ন, জীববিজ্ঞানের প্রস্তুতি। 

জীবনের অঙ্ক মেলাতে চান৷ বিয়ে হয়েছে ভিন্ন ধর্মের এক যুবকের সঙ্গে। ২০ ব্বছর বয়সে সংসার সন্তান সব সামাল দিয়েও স্বপ্নের পথে হেঁটে চলেছেন৷  

বিয়ে মানেই সব স্বপ্নের শেষ নয়, বরং শুরু, সর্বভারতীয় সংবাদনাধ্যমকে তরুণী বলেন চমকে দেওয়ার মতো কথা, “বিয়ে করেছিলাম, কারণ পড়তে চেয়েছিলাম।” পরিবার যখন পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়ে উঠেছিল তাঁর কাছে স্বাধীনতার চাবিকাঠি।

 স্বামীর সমর্থন, শ্বশুরবাড়ির পরিসর, সব মিলিয়ে যে জায়গাটা তিনি পেলেন, তা বাপের বাড়িতে অধরাই থেকে গিয়েছিল। 

ভিন্ন ধর্মের সঙ্গীকে বেছে নেওয়ার জন্য অনেক বাধা বিপত্তি এসেছে৷  আত্মীয়-প্রতিবেশী সামাজিক অস্বস্তি, সবই সামলাতে হয়েছে। লক্ষ্য একটাই — পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া।

 রাত হলে সন্তান ঘুমিয়ে পড়লে শুরু হয় তাঁর পড়ার সময়; ভোরবেলাতেও বইয়ের পাতায় চোখ। স্বামী রান্নাঘরে হাত লাগান, শ্বশুর, শাশুড়ি দেখভাল করেন বাচ্চার। সেই সহযোগিতাই তাঁর শক্তি। সংসার আর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন এক সুতোয় বাঁধা দুই স্বপ্ন৷ 


ডাক্তারের সাদা অ্যাপ্রন পরার স্বপ্ন এখনও সফল হয়নি ওই তরুণীর। NEET-এর প্রস্তুতি চলছে। তবু এই অসমাপ্ত যাত্রাই অজস্র মেয়ের কাছে এক আলোকবর্তিকা। 

মেয়েদের শিক্ষার পথ আজও সহজ নয়, কিন্তু ইচ্ছা থাকলে আর পরিবারের একটু সাহায্য পেলেই আকাশছোঁয়া অসম্ভব নয়৷