সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও দেখে আতঙ্কিত হবেন না, জানাল কেন্দ্রীয় খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা। কিছু ক্ষেত্রে তরমুজে রং মেশানো হচ্ছে৷ একথা জানিয়েছে সংস্থা৷ তরমুজে সিরিঞ্জ ফুটিয়ে রঙ মেশানো হচ্ছে। কারখানায় তৈরি হচ্ছে ‘প্লাস্টিকের ডিম’। সম্প্রতি এই ধরনের কিছু ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল।  এই সমস্ত ভিডিও আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঘরে ঘরে। 

ভাইরাল ‘ইঞ্জেকশন’ ভিডিওগুলির বেশির ভাগই ‘সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট’-এর নামে তৈরি স্টান্ট। তবে অনেক সময় তরমুজে কৃত্রিম লাল রং (বিশেষত এরিথ্রোসিন বি) মাখিয়ে রঙ বাড়ানো হয়। সম্প্রতি FSSAI তামিলনাড়ুতে অভিযান চালিয়ে দু’হাজার কেজিরও বেশি রং-মাখানো তরমুজ বাজেয়াপ্ত করেছে।


তরমুজে রং মেশানো আছে কি না, FSSAI কয়েকটি সহজ পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, ফলটি মাঝখানে কেটে লাল অংশে তুলো ঘষুন; তুলো লাল হয়ে গেলে বুঝবেন কৃত্রিম রং আছে। দ্বিতীয়ত, এক টুকরো সাদা টিস্যু পেপারে একইভাবে ঘষলেও রং উঠে আসতে পারে। তৃতীয়ত, এক টুকরো তরমুজ এক গ্লাস জলে রাখুন; জল লাল হয়ে গেলে নিশ্চিত হোন — রং মেশানো।


FSSAI স্পষ্ট জানিয়েছে — বাজারে ‘প্লাস্টিক ডিম’ বলে কিছু নেই। আসল ডিমের মতো দেখতে কৃত্রিম ডিম তৈরির প্রযুক্তিই আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। যে ভিডিওগুলি ‘প্লাস্টিক ডিমের কারখানা’ হিসেবে ভাইরাল, সেগুলি আসলে শিশুদের খেলনা ডিম তৈরির কারখানার ফুটেজ; চিনের নানজিং পুলিশ সরকারিভাবে তা যাচাই করেছে।

FSSAI জানিয়েছে, ভারতের কর্নাটক রাজ্যে ডিম, চাল, চিনি, রাগি-র দু’শোরও বেশি নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল৷ কোনওটিতেই প্লাস্টিকের চিহ্ন মেলেনি। অনেক সময় ভাজা ডিমের ‘রবারের মতো’ আবরণ দেখে মানুষ ভয় পান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওটি নিছক পুরনো ডিমের লক্ষণ, প্লাস্টিক নয়৷ 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি সাধারণ খাদ্য-সচেতনতার উদ্দেশ্যে। সন্দেহজনক খাবার সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য FSSAI-র অভিযোগ পোর্টাল বা স্থানীয় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।