আজকাল ওয়েবডেস্ক: উৎসবের উপহার হোক বা সন্ধেবেলার নাস্তা—কাজু বাদামের কদর চিরকাল। শুধু স্বাদের জন্য নয়, এই বাদাম শরীরের নানা উপকারে লাগে। ছোট্ট এই বাদামে এমন অনেক উপাদান রয়েছে, যা নিয়মিত খেলে শরীর যেমন চাঙ্গা থাকে, তেমনই দূরে থাকে নানা রোগ।
১. হৃদয় ভাল রাখে
কাজু বাদামে আছে ‘মোনোআনস্যাচুরেটেড’ এবং ‘পলিআনস্যাচুরেটেড’ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে কাজু খেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি দিন ৪–৫টি কাজু খেলে হৃদ্‌পিণ্ডে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা কমে যায়।
২. হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে
কাজুতে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপরোসিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কাজু সেই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
৩. ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বাড়ায়
কাজু বাদামে আছে কপার বা তামা, যা কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বক হয় টানটান ও উজ্জ্বল। সেই সঙ্গে চুল পড়া রোধে ও চুলের গোড়া মজবুত করতেও সাহায্য করে কোলাজেন। এছাড়া, কাজুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে ত্বকে বলিরেখা পড়ার প্রবণতা কমে এবং বয়সের ছাপও পড়ে না।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
অনেকেই ভাবেন কাজু বাদাম খেলে বুঝি মোটা হয়ে যাবেন। বাস্তব কিন্তু একেবারে উল্টো, পরিমিত মাত্রায় খেলে এই বাদাম পেট ভরাট রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। তাছাড়া কাজুতে ফাইবার ও প্রোটিন থাকায় হজমও ভাল হয় এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৫. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কাজু বাদামে থাকা জিঙ্ক শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত খেলে সর্দি-কাশি, ইনফেকশন বা ভাইরাল রোগের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, এতে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। কাজেই রক্তাল্পতার বিরুদ্ধে লড়তেও কাজু বেশ কার্যকর।
কীভাবে খাবেন?
* প্রতিদিন সকালে ৪–৫টি ভেজানো কাজু খেতে পারেন।
 • বাদাম ভাজার সময় অতিরিক্ত লবণ বা মসলা এড়ানো ভাল।
 • যাঁদের বাদামে অ্যালার্জি আছে, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।