ঘর পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে আমরা অনেক ধরনের জিনিস ব্যবহার করি, যেমন রুম ফ্রেশনার, মোমবাতি, ডিটারজেন্ট, প্লাস্টিকের কৌটো ইত্যাদি। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সাধারণ জিনিসগুলোর মধ্যে কয়েকটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকী ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।


সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে রুম ফ্রেশনার।শুধু ঘরের দুর্গন্ধ দূর করে ঠিকই, কিন্তু এতে থাকা কিছু রাসায়নিক (যেমন ভিওসিএস) বাতাসে মিশে শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে যেতে পারে। বন্ধ ঘরে বেশি ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে।


পাশাপাশি আরও কয়েকটি দৈনন্দিন জিনিস রয়েছে, যেগুলো নিয়েও সতর্ক হওয়া দরকার। যেমন- 

সুগন্ধি মোমবাতি: এটি জ্বালালে ধোঁয়া ও ক্ষুদ্র কণা তৈরি হয়, যা ফুসফুসের জন্য ভাল নয়।


মশার কয়েল: এর ধোঁয়া অনেক সময় সিগারেটের ধোঁয়ার মতোই ক্ষতিকর হতে পারে।


নন-স্টিক প্যান: খুব বেশি গরম করলে এতে থাকা কোটিং থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক বের হতে পারে।


প্লাস্টিক কনটেইনার: গরম খাবার রাখলে বা মাইক্রোওয়েভে দিলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল খাবারে মিশে যেতে পারে।


হেয়ার ডাই: বারবার ব্যবহার করলে এর রাসায়নিক ত্বক দিয়ে শরীরে ঢুকতে পারে।


ন্যাপথলিন বল: কাপড়ে পোকা দূর করতে ব্যবহার করা হলেও এর গন্ধ দীর্ঘসময় শ্বাস নেওয়া ক্ষতিকর।


ডিটারজেন্ট ও ক্লিনার: অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত হলে ত্বক ও শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা করতে পারে।


ট্যালকম পাউডার: কিছু ক্ষেত্রে এতে ক্ষতিকর উপাদান থাকার আশঙ্কা থাকে।


প্লাস্টিক ব্যাগ: গরম জিনিস রাখলে কেমিক্যাল ছাড়তে পারে।


তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, এই জিনিসগুলো ব্যবহার করলেই ক্যানসার হবে, এমন নয়। তবে সমস্যা হয় যখন এগুলো দীর্ঘদিন ধরে, বেশি পরিমাণে বা ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়।


ঝুঁকি কমানোর সহজ উপায় তাহলে কী? ঘরে সবসময় জানালা খুলে বাতাস চলাচল রাখুন। 
রুম ফ্রেশনারের বদলে প্রাকৃতিক সুগন্ধ (লেবু, ফুল) ব্যবহার করতে পারেন। প্লাস্টিকের বদলে কাচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করুন। মশার কয়েলের বদলে মশারি বা ইলেকট্রিক রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন।নন-স্টিক প্যান কম আঁচে ব্যবহার করুন। বেশি কেমিক্যালযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলুন।


ভয় পাওয়ার দরকার নেই, সচেতন থাকাই আসল। ছোট ছোট অভ্যাস বদলালেই আমরা অনেক বড় ঝুঁকি এড়াতে পারি।