রাতে ঘুমানোর সময় বা সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ দেখলেন আপনার হাত একেবারে অবশ হয়ে রয়েছে। নাড়াচাড়া করতে পারছেন না কিংবা হাতে সুচ ফোটানোর মতো ঝিনঝিন করছে। অনেক সময় মনে হয় হাতটা যেন আপনার শরীরের অংশই নয়! শুধু আপনার নুয়, এমন অভিজ্ঞতা প্রায়ই অনেকের হয়। কিন্তু এর কারণ কী জানেন? এতে কি ভয়ের কিছু আছে?
আমাদের শরীরে রক্ত চলাচল এবং সংকেত পাঠানোর জন্য স্নায়ু কাজ করে। যখন কোনও কারণে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে, তখন সেটি মস্তিষ্কে ঠিকমতো সিগন্যাল পাঠাতে পারে না। তখনই হাত অবশ মনে হয়। এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ থাকতে পারে। যেমন-
ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো: এটি সবথেকে সাধারণ কারণ। ঘুমের ঘোরে হয়তো আপনি হাতের ওপর মাথা রেখে শুয়েছেন বা হাতটা এমনভাবে ভাঁজ হয়ে আছে যে রক্ত চলাচল কমে গিয়েছে। এতে স্নায়ু সাময়িকভাবে চেপে যায়।
কার্পাল টানেল সিনড্রোম: আপনি কি মোবাইল বা ল্যাপটপে খুব বেশি টাইপ করেন? আমাদের কব্জির মাঝখান দিয়ে একটি সরু পথ (টানেল) আছে। সেই পথ দিয়ে যাওয়া স্নায়ু যদি চাপে থাকে, তবে হাতের তালু ও আঙুল অবশ হয়ে যায়।
সার্ভাইকাল স্পন্ডিলোসিস: বয়সের কারণে বা ভুলভাবে বসার ফলে ঘাড়ের হাড়ের সমস্যা হয়। ঘাড়ের কোনও স্নায়ু যদি হাড়ের চাপে থাকে, তবে তার প্রভাব হাতে এসে পড়ে।
ভিটামিনের ঘাটতি: আমাদের স্নায়ু বা নার্ভ সুস্থ রাখার জন্য ভিটামিন বি১২ অত্যন্ত জরুরি। শরীরে এই ভিটামিন কমে গেলে হাত-পা ঝিনঝিন করা বা অবশ হওয়ার সমস্যা শুরু হয়।
ডায়াবেটিস: যাদের সুগার অনেক বেশি, তাদের স্নায়ু ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। একে বলা হয় 'ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি'। এর ফলেও সকালে হাত অবশ লাগতে পারে।
ঘরোয়াভাবে স্বস্তি পেতে কী করবেন
১. শোওয়ার ভঙ্গি বদলান: চেষ্টা করুন চিৎ হয়ে ঘুমানোর। হাত দুটি শরীরের দুই পাশে আরামদায়ক অবস্থায় রাখুন। হাতের ওপর চাপ দেবেন না।
২. হাতের ব্যায়াম: সকালে ঘুম থেকে উঠে কব্জি গোল করে ঘোরানো এবং আঙুলগুলো মুঠো করা ও ছাড়ার ব্যায়াম করুন। এতে রক্ত চলাচল বাড়বে।
৩. পুষ্টিকর খাবার: দুধ, পনির, ডিম বা মাছের মতো খাবার খান যাতে পর্যাপ্ত ভিটামিন পাওয়া যায়।
৪. কব্জির যত্ন: ঘুমানোর সময় খেয়াল রাখুন কব্জি যেন খুব বেশি মুড়ে না থাকে। প্রয়োজনে কব্জিতে নরম ব্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন।
কখন সাবধান হতে হবে? যদি প্রতিদিন এমন হতে থাকে, হাতের পেশি দুর্বল হয়ে যায় বা কোনও কিছু আঁকড়ে ধরতে সমস্যা হয়, তবে একে হালকাভাবে নেবেন না। দীর্ঘদিনের অবহেলা থেকে নার্ভ বা স্নায়ুর বড় ক্ষতি হতে পারে। এমন অবস্থায় অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে এবং সচেতন থাকলে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।















