অনেকে প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস করেন। মনে হয়, সাময়িক অস্বস্তি ছাড়া এর তেমন কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু বাস্তবে এই অভ্যাসের প্রভাব অনেক গভীর এবং মারাত্মক হতে পারে। সময়মতো শৌচাগারে না গেলে মূত্রথলি ও কিডনির স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

শৌচাগারে যেতে দেরি করলে শরীরে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে এবং তা কীভাবে মূত্রথলি ও কিডনির স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন ডা. পি ভামসি কৃষ্ণ। তিনি জানিয়েছেন, নিয়মিত প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে

অনেকেই ভাবেন প্রস্রাব চেপে রাখলে শুধু মূত্রথলিতে চাপ পড়ে। কিন্তু এর ফল আরও গুরুতর হতে পারে। ডা. ভামসি কৃষ্ণ জানান, নিয়মিত প্রস্রাব আটকে রাখলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই-এর ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, “যাঁরা বারবার শৌচাগারে যেতে দেরি করেন, তাঁদের ইউটিআই হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হলেও পুরুষরাও একেবারেই নিরাপদ নন।” কারণ হিসাবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রস্রাব নিয়মিত বেরিয়ে যাওয়ার জন্যই তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় মূত্রথলিতে জমে থাকলে ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার করার সুযোগ বাড়ে। ইউটিআই-এর সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রস্রাবের সময় জ্বালা, জ্বর এবং তলপেটে ব্যথা।

কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে

নিয়মিত প্রস্রাব চেপে রাখলে কিডনির স্বাস্থ্যের উপরও মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। চিকিৎসকের মতে, এই অভ্যাসের ফলে ‘ভেসিকোইউরেটেরাল রিফ্লাক্স’ নামের একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেখানে প্রস্রাব উল্টো পথে কিডনির দিকে ফিরে যায়। এতে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সমস্যা যদিও তুলনামূলকভাবে বিরল, তবুও তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

জলশূন্যতা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে

পর্যাপ্ত জল না খাওয়াও বড় সমস্যা। ডা. ভামসি কৃষ্ণ জানিয়েছেন, বিশেষ করে পরীক্ষার সময় অনেক পড়ুয়া ইচ্ছাকৃতভাবে জল কম পান করেন। এর ফলে প্রস্রাব বেশি ঘন হয়ে যায়, যা মূত্রথলিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

মানসিক চাপ ও মনোযোগের ঘাটতি

প্রস্রাব চেপে রাখলে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক চাপও বাড়ে। চিকিৎসকের কথায়, ভর্তি মূত্রথলি মস্তিষ্কে বারবার সঙ্কেত পাঠায়, যার ফলে অজান্তেই মানসিক চাপ ও অস্থিরতা তৈরি হয়। এতে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। বরং সময়মতো শৌচাগারে গেলে সতর্কতা ও কাজের দক্ষতা বাড়ে, যা বিশেষ করে পরীক্ষার সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।