মুখে বারবার ব্রণ হচ্ছে? একজিমা বা রোসেসিয়ার মতো ত্বকের সমস্যা কিছুতেই কমছে না? অনেকেই এক্ষেত্রে দামি ফেসওয়াশ, সিরাম বা ক্রিম ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সব সময় সমস্যার কারণ ত্বকের বাইরে থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে এর সূত্রপাত হতে পারে আমাদের পেট বা অন্ত্র থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের অন্ত্রে কোটি কোটি ভাল ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি শুধু খাবার হজম করতেই সাহায্য করে না, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে এবং প্রদাহ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই কারণেই অন্ত্রকে অনেক সময় শরীরের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ বলা হয়।
নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খাওয়া, অতিরিক্ত চিনি, তেল-মশলাযুক্ত খাবার, মানসিক চাপ, কম ঘুম বা অযথা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে অন্ত্রের এই ভাল ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'গাট ডিসবায়োসিস'। তখন শরীরে প্রদাহের মাত্রা বাড়ে এবং তার প্রভাব ত্বকেও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য খারাপ হলে ব্রণের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি একজিমা, রোসেসিয়া, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত শুষ্কতা, চুলকানি বা সংবেদনশীল ত্বকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই শুধু বাইরে থেকে ওষুধ বা প্রসাধনী ব্যবহার করলেই সব সময় সমাধান হয় না। শরীরের ভেতরের যত্নও সমান জরুরি।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন। যেমন—সবুজ শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ফল, ডাল, ওটস, ব্রাউন রাইস এবং গোটা শস্য। এছাড়া টক দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খাবার ভাল ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। কলা, রসুন, পেঁয়াজের মতো কিছু খাবার প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে, যা ভাল ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করে।
এছাড়া দিনে পর্যাপ্ত জল পান করা, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা এবং অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোও অন্ত্র ও ত্বক, দুটির জন্যই উপকারী। অতিরিক্ত কোল্ডড্রিঙ্কস, প্যাকেটজাত খাবার, ফাস্ট ফুড এবং অতিরিক্ত মিষ্টি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভাল। তবে চিকিৎসকরা এটাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সব ব্রণ বা ত্বকের সমস্যার জন্য শুধু অন্ত্রকে দায়ী করা ঠিক নয়। হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত কারণ, অ্যালার্জি, দূষণ, ভুল স্কিনকেয়ার বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এসব সমস্যা হতে পারে।
যদি দীর্ঘদিন ধরে ব্রণ, একজিমা বা রোসেসিয়া থেকে যায়, তাহলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক আপনার খাদ্যাভ্যাস ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যও মূল্যায়ন করতে পারেন।
মনে রাখবেন, সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে মুখে ক্রিম লাগানোই যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার, ভাল হজমশক্তি, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক জীবনযাপন-এই চারটি বিষয়ই ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।
















