খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ বমি, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া বা দুর্বলতা-এই উপসর্গগুলো অনেকেই সাধারণ গ্যাস্ট্রিক ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এর পেছনে থাকতে পারে খাবারে বিষক্রিয়া। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যার শুরু হয় আমাদের দৈনন্দিন রান্নাঘরের কিছু সামান্য কিন্তু বিপজ্জনক অভ্যাস থেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার যখন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ক্ষতিকর টক্সিনে দূষিত হয়, তখনই ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। আর এই দূষণ অনেক সময় অজান্তেই ঘটে যায়। সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হল রান্না করা খাবার দীর্ঘক্ষণ বাইরে রেখে দেওয়া। অনেকেই দুপুরের ভাত বা তরকারি রাতে আবার গরম করে খান। কিন্তু রান্না করা খাবার ২ ঘণ্টার বেশি ঘরের তাপমাত্রায় পড়ে থাকলে তাতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে ভাতের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি।

আরেকটি মারাত্মক অভ্যাস হল কাঁচা মাংস বা মাছ কাটার পর একই ছুরি ও চপিং বোর্ডে অন্য খাবার কাটা। কাঁচা মাংসে থাকা সালমোনেলা বা ই-কোলাইয়ের মতো ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই সবজি বা রান্না করা খাবারে ছড়িয়ে পড়ে। যা চোখে না দেখা গেলেও শরীরের ভেতরে গিয়ে বড় ক্ষতি করে।

অনেকে রান্নাঘরে কাজ করার সময় বারবার হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্ব দেন না। কাঁচা মাংস, ডিম বা মাছ ধরার পর হাত না ধুয়ে অন্য খাবার ছুঁলে সংক্রমণ ছড়ায়। শুধু সাবান-জল দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার অভ্যাসই অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

এছাড়া ফ্রিজের ভুল ব্যবহারও ফুড পয়জনিংয়ের অন্যতম কারণ। খুব গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখা, ফ্রিজ নিয়মিত পরিষ্কার না করা বা মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার রেখে দেওয়া-সবই ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।

ফুড পয়জনিং হলে সাধারণত বমি, অনিয়মিত মল, পেট ব্যথা, জ্বর ও শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যা কমে যায়, তবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল ডিহাইড্রেশন। তাই এই সময় পর্যাপ্ত জল ওআরএস বা তরল খাবার খাওয়া খুব জরুরি।

সবচেয়ে ভাল প্রতিরোধ হল সতর্কতা। রান্নার আগে ও পরে হাত ধোয়া, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, খাবার ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং বাসি খাবার এড়িয়ে চললেই এই বিপদ থেকে অনেকটা নিরাপদ থাকা সম্ভব। ছোট অভ্যাস বদলালেই বড় অসুখ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে বাঁচানো যায়।