প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকরাও নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর সাহায্যে কারও গলার স্বর নকল করে পরিচিত মানুষ সেজে ফোন করার ঘটনা বাড়ছে। এই ধরনের প্রতারণা ঠেকাতেই গুগলের নতুন ‘ফেক কল ডিটেকশন’ ফিচার চালু হয়েছে।

নতুন এই ফিচারটি সন্দেহজনক কল শনাক্ত করে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে। অনেক সময় প্রতারকরা পরিচিত ব্যক্তির নম্বর জেনে নিয়ে বা AI দিয়ে তৈরি কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে ফোন করে। প্রতারকরা পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা কোনও সংস্থার কর্মী সেজে জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

 গুগলের নতুন সিস্টেম এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কল আগে থেকেই চিহ্নিত করার চেষ্টা করবে।
গুগল জানিয়েছে, এই ফিচারটি ‘Phone by Google’ অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করবে এবং Android 12 বা তার পরবর্তী সংস্করণের ডিভাইসে ধাপে ধাপে পৌঁছবে। 

এই প্রযুক্তি ফোন কলের সত্যতা যাচাই করতে দুই ডিভাইসের মধ্যে একটি সুরক্ষিত সংকেতের সাহায্য নেয়। যদি কোনও প্রতারক অন্য কারও পরিচয় ব্যবহার করে ফোন করে, তাহলে সেই যাচাই প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি ধরা পড়তে পারে এবং ব্যবহারকারীর ফোনে সতর্কবার্তা দেখানো হবে।


AI ভয়েস ক্লোনিং বর্তমানে সাইবার অপরাধীদের অন্যতম বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে শুধুমাত্র ভুয়ো নম্বর থেকে কল আসত, এখন সেখানে কণ্ঠস্বর পর্যন্ত নকল করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে অনেকেই আসল ও নকল কলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সমস্যায় পড়ছেন। 

এই পরিস্থিতিতে গুগলের নতুন উদ্যোগ সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে।
তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, ব্যবহারকারীদের সতর্কতাও জরুরি। কোনও ফোন কলে তাড়াহুড়ো করে টাকা পাঠানো, OTP শেয়ার করা বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া উচিত নয়। পরিচিত কারও কাছ থেকে জরুরি সাহায্যের ফোন এলেও অন্য কোনও মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে নেওয়া নিরাপদ।

গুগলের এই নতুন ফিচার স্মার্টফোন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে AI-ভিত্তিক প্রতারণা আরও বাড়তে পারে, তাই প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় জোর দিচ্ছে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য এই নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা ফেক কলের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।