গর্ভাবস্থায় শরীরে একের পর এক পরিবর্তন আসে। হরমোনের ওঠানামা, রক্তের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, মানসিক চাপ, বমি বা ডিহাইড্রেশনের মতো নানা কারণে অনেক গর্ভবতী মহিলারই মাথাব্যথা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি স্বাভাবিক হলেও, বারবার বা খুব তীব্র মাথাব্যথা কখনও কখনও বড় ধরনের শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এমন উপসর্গকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে মাথাব্যথা হওয়া তুলনামূলকভাবে সাধারণ। এই সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা দ্রুত বদলায়। সেই সঙ্গে বমিভাব, কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না পান করা বা ক্লান্তির কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। সাধারণত বিশ্রাম নিলে এবং শরীরের যত্ন নিলে এই ধরনের ব্যথা কমে যায়।
গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের পর যদি হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় বা বারবার হতে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। কারণ এটি প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া-এর লক্ষণ হতে পারে। এই অবস্থায় গর্ভবতীর রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং কিডনি, লিভার, মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে প্রভাব পড়তে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মা ও গর্ভের শিশুর জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শুধু মাথাব্যথা নয়, এর সঙ্গে যদি বেশ কয়েকটি লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। যেমন- চোখে ঝাপসা দেখা বা আলো ঝলকানোর মতো অনুভূতি, মুখ, হাত বা পা হঠাৎ ফুলে যাওয়া, পেটের ডান দিকের উপরের অংশে তীব্র ব্যথা, বমি বা বমি বমি ভাব বেড়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, শিশুর নড়াচড়া কম মনে হওয়া। এই লক্ষণগুলির এক বা একাধিক থাকলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।
তবে সব মাথাব্যথাই যে বিপদের লক্ষণ, এমন নয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত জল পান না করলে, দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে, অতিরিক্ত স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে বা ঘুম কম হলে মাথাব্যথা হতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন, সময়মতো পুষ্টিকর খাবার খান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং মানসিক চাপ যতটা সম্ভব কম রাখুন।
মাথাব্যথা হলে নিজের ইচ্ছামতো কোনও ব্যথার ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় সব ওষুধ নিরাপদ নয়। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেক-আপ করানো। প্রতিবার চিকিৎসকের কাছে গেলে রক্তচাপ, ওজন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করালে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার মতো জটিল সমস্যা অনেক আগেই ধরা পড়তে পারে। তাই বারবার মাথাব্যথাকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এতে মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে।
















