এক সময় মনে করা হতো, কাপল থেরাপি শুধুমাত্র দাম্পত্য সম্পর্ক বাঁচানোর জন্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলাচ্ছে। ভারতে এখন বিবাহবিচ্ছেদ বা দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পরও অনেক দম্পতি পেশাদার কাউন্সেলিং বা কাপল থেরাপির সাহায্য নিচ্ছেন। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও কীভাবে সম্মানজনক যোগাযোগ বজায় রাখা যায়, মানসিক আঘাত কাটিয়ে নতুন জীবন শুরু করা যায় কিংবা সন্তান থাকলে তার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহ-অভিভাবকত্ব (Co-parenting) গড়ে তোলা যায়—এসব কারণেই এই থেরাপির চাহিদা বাড়ছে।
মনোবিদদের মতে, বিচ্ছেদ মানেই সব সমস্যার শেষ নয়। অনেকের ক্ষেত্রেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অপরাধবোধ, রাগ, হতাশা, একাকীত্ব বা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দীর্ঘদিন ধরে থেকে যায়। এই মানসিক চাপ সামলাতে এবং সুস্থভাবে এগিয়ে যেতে অনেকেই পেশাদার থেরাপিস্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপল থেরাপির উদ্দেশ্য সবসময় ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানো নয়। অনেক সময় থেরাপির মাধ্যমে দুই পক্ষকে এমনভাবে কথা বলতে শেখানো হয়, যাতে অকারণ তিক্ততা না বাড়ে এবং সম্পর্কের সমাপ্তিও সম্মানজনক হয়। বিশেষ করে যেসব দম্পতির সন্তান রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া, বর্তমানে শহুরে জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ, আর্থিক দুশ্চিন্তা এবং পরিবর্তিত জীবনযাত্রার কারণে দাম্পত্য সম্পর্কে চাপ বাড়ছে। অনেকেই বুঝতে পারছেন, সমস্যা দীর্ঘদিন চেপে রাখার বদলে সময়মতো বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া ভবিষ্যতের জন্য ভাল সিদ্ধান্ত হতে পারে। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাপল থেরাপিকেও আর সামাজিক ট্যাবু হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, থেরাপির মাধ্যমে মানুষ শুধু নিজের সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক নয়, নিজের আবেগ, প্রত্যাশা এবং আচরণ সম্পর্কেও নতুন করে সচেতন হতে শেখেন। এর ফলে ভবিষ্যতের সম্পর্কেও একই ভুল এড়িয়ে চলা সহজ হয়। অনেকের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পর নতুন জীবন শুরু করার আত্মবিশ্বাসও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিরে আসে।
তবে মনোবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সব সম্পর্ক একই রকম নয়। কোথাও যদি শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, হিংসা বা নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকে, সেখানে শুধুমাত্র কাপল থেরাপি যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও মানসিক সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা যত বাড়ছে, ততই সম্পর্কের সমস্যাকেও মানুষ বাস্তবসম্মতভাবে দেখতে শিখছেন। বিচ্ছেদ মানেই জীবনের শেষ নয়—বরং নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার একটি সুযোগ। আর সেই পথেই অনেকের ভরসা হয়ে উঠছে পেশাদার কাপল থেরাপি।
















