গর্ভনিরোধক ব্যবহার করেন এমন নারীর সংখ্যা বেশ অনেকটাই৷ সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট ধরনের হরমোনাল গর্ভনিরোধক ব্যবহারের সঙ্গে বিরল ধরনের মস্তিষ্কের টিউমার মেনিনজিওমা (Meningioma)-র ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে। 

ডেনমার্কের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার গবেষকরা প্রায় ২৫ বছর ধরে ৩০ লক্ষেরও বেশি নারীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, মেড্রোক্সিপ্রোজেস্টেরন (Depo-Provera) ইনজেকশন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মেনিনজিওমার আপেক্ষিক ঝুঁকি প্রায় চার গুণ বেশি হতে পারে। এছাড়া কিছু কম্বাইন্ড ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল এবং মিনিপিলের ক্ষেত্রেও তুলনামূলকভাবে সামান্য ঝুঁকি বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে।
মেনিনজিওমা সাধারণত ক্যানসার নয়। প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এই টিউমারে মাথাব্যথা, খিঁচুনি, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা অন্যান্য স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার বা রেডিয়েশন থেরাপির মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়।

 বিজ্ঞানীদের মতে, গর্ভনিরোধক ব্যবহার করা বন্ধ করলে কয়েক বছরের মধ্যেই এই অতিরিক্ত ঝুঁকি ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। পাশাপাশি তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ করে কোনও হরমোনাল গর্ভনিরোধক বন্ধ করা উচিত নয়। কারণ অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ রোধ এবং বিভিন্ন স্ত্রীরোগের চিকিৎসায় এই ওষুধগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গর্ভনিরোধক নিয়ে কোনও উদ্বেগ থাকলে অবশ্যই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করুন। ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক ইতিহাস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কোন পদ্ধতি সবচেয়ে নিরাপদ, সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের পরামর্শেই নেওয়া উচিত। গবেষণাটি সতর্কতার বার্তা দিলেও এটি গর্ভনিরোধক ব্যবহারে আতঙ্ক ছড়ানোর কারণ নয়।
তবে চিকিৎসকদের মতে, আপেক্ষিক ঝুঁকি বাড়লেও প্রকৃত ঝুঁকি এখনও খুবই কম। সাধারণভাবে প্রতি এক হাজার নারীর মধ্যে প্রায় পাঁচজনের মেনিনজিওমা হতে পারে। এই সংখ্যা নির্দিষ্ট কিছু গর্ভনিরোধক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বেড়ে প্রায় ছয়জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ ঝুঁকি বাড়লেও তা সংখ্যার বিচারে খুব বেশি নয়।