ব্রিটিশ আমল থেকে চালু ভারতের সবচেয়ে কঠিন পেশাদার পরীক্ষাগুলির অন্যতম ‘চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি’ বা সিএ। সেখানেই বাজিমাত করলেন ৫২ বছরের অনিতা কাপড়ি।
৪৮ বছর বয়সে শুরু করেছিলেন পড়াশোনা। চার বছর কঠোর পরশ্রমের পরে ৫২ বছর বয়সে উত্তীর্ণ হলেন মহিলা৷ করলেন বাবার স্বপ্নপূরণ৷ মেয়ের কাছে এমন উপহার পেয়ে বাবার চোখে জল।
শুধু সাফল্যই নয়, এই পরিশ্রমের পিছনে ছিল এক মিষ্টি স্বপ্ন — বাবার ৭৫তম জন্মদিনে তাঁকে উপহার দেবেন একটি সিএ ডিগ্রি।পেশায় ছিলেন স্কুলের কলা বিভাগের শিক্ষিকা। মাঝবয়সে এসে নতুন কিছু করার তীব্র ইচ্ছা হল, তখনই ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব ইন্ডিয়া (ICAI) ঘোষণা করল ‘ডাইরেক্ট এন্ট্রি রুট’ — স্নাতক হলে সিপিটি না দিয়েই কোর্সে নাম লেখানো যাবে।
অনিতা ২০১২-র সেপ্টেম্বরে, ৪৮ বছর বয়সে, রেজিস্ট্রেশন করলেন সিএ কোর্সে। পথ মোটেই সহজ ছিল না। মাঝবয়সে পড়াশোনায় ফেরা মানে শুধু বই পড়া নয়, সংসারের দায়িত্ব, পরিবারের প্রত্যাশা, শরীরের ক্লান্তি — সব একসঙ্গে সামলানো।
আইপিসিসি-র দু’টি গ্রুপ, তিন বছরের আর্টিকলশিপ ট্রেনিং, এবং অবশেষে চূড়ান্ত পরীক্ষার দু’টি গ্রুপ, প্রতিটি ধাপে ছিল ৭-৮টি কঠিন বিষয়। অথচ অনিতা থামেননি। রাতের পর রাত পড়েছেন, সকালে আবার সংসারের কাজে। বাবারউখে হাসি ফোটানোর জন্য চার বছর পর, ৫২ বছর বয়সে, ছিনিয়ে আনলেন সিএ ডিগ্রি। জন্মদিনের কেকের পাশে যখন মেয়ে রাখলেন সদ্য পাওয়া চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সার্টিফিকেট, ৭৫ বছরের বৃদ্ধ বাবার চোখে চলে এল জল।
নিজের ৭৫তম জন্মদিনে তিনি পেলেন এমন এক উপহার, যা সাধারণত কোনও বাবাই কল্পনা করেন না। অনিতা পরে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বাবাকে CA ডিগ্রি দেওয়ার এই স্বপ্নই তাঁকে প্রতিটি রাত-জাগার শক্তি জুগিয়েছিল। শেখার ও সাফল্যের পথে বয়স কোনও বাধা নয়। এই সরল সত্যকে আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন এক প্রাক্তন শিক্ষিকা।















