আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূলের বিপুল তাকার হবে কী? দল ভেঙে টুকরো টুকরো। অর্থের  মালিকানা কোন গোষ্ঠীর কাছে যাবে? জল্পনার মাঝেই অরূপ বিশ্বাস কোষাধ্যক্ষ হিসেবে চিঠি দেন ব্যাঙ্ককে। অন্যদিকে ঋতব্রত গোষ্ঠীর বিধায়কেরাও চিঠি দেন। ঘাসফুল শিবিরের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ইতিমধ্যেই। নতুন কোষাধ্যক্ষ এখনও মুখ খোলেননি এসব বিষয়ে। তবে একাধিক প্রশ্ন তুলছেন কুণাল ঘোষ। 

রবিবার তিনি কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সঙ্গে লিখেছেন-'তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং টাকা নিয়ে যারা অভিযোগ করেছে, তারাই ক'দিন আগে নিজেদের ভোটে সেই দলের ব্যাঙ্ক থেকে ২৫ লক্ষ টাকা করে নিল কেন? নির্বাচন কমিশনে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাটন-ঋত ভোটে খরচ করেছে 26,86,038 টাকা। তারমধ্যে 25 লক্ষ তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে আসা।  RTGS-HDFCHOO92656804 as Party donation. সন্দীপন সাহার খরচ 27,01,372 টাকা। এর মধ্যে 25 লক্ষ টাকা পার্টি থেকে।'

এখানেই শেষ নয়, বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলে কুণাল লিখেছেন-
'প্রশ্ন, 1) পার্টির প্রতীক, পার্টিকর্মীদের আবেগ পরিশ্রম শুধু নয়, পার্টির টাকায় নির্বাচন করে এসে সেই পার্টির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে কালিমালিপ্ত করতে লজ্জা করল না? 
2) টাকা খারাপ হলে নিল কেন? ভোটে ব্যবহার করল কেন? 
3) যদি মনে করে টাকা খারাপ, এখনও পার্টিকে বা সরকারকে টাকা ফেরত দেয়নি কেন???
 চাটন-ঋতর কাছ থেকে এই দ্বিচারিতা প্রত্যাশিত, কিন্তু সন্দীপন অসৎ সঙ্গে পড়ে আর কত নিচে নামবে? দ্বিচারিতা ও বিশ্বাসঘাতকতার একটা সীমা থাকা উচিত।
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক, তহবিল, সম্পদ নিয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। এতদিনের দল, এত জনপ্রতিনিধি, কর্মীদের সাহায্য, আইনানুগ পদ্ধতিতে তহবিল থাকতে পারে। তবু, জানি না, তাই  মন্তব্য করব না। কিন্তু চাটন-ঋতরা নিজের জন্য টাকা নেবে, তারপর অন্যের হাতে তামাক খেয়ে সেই তহবিলকেই আক্রমণ করবে, এই বেইমানি চলতে পারে না।'

এর আগেও এই প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াতেই কুণাল লিখেছিলেন- 
'তৃণমূলের তহবিল, অ্যাকাউন্ট, সম্পদ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। থাকার কথাও নয়। এক্তিয়ারও নেই। এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না।
  কিন্তু একটি কৌতূহল। চাটন-ঋতসহ যে বিধায়করা চিঠি দিয়ে দলের অ্যাকাউন্ট নিয়ে কথা তুললেন, তাঁরা স্পষ্টভাবে বলুন:
1) তৃণমূলের কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে এবার ভোটে প্রার্থী হিসেবে আপনাদের টাকা দেওয়া হয়েছিল কি না।
2) যদি সেই অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে আপনাদের অভিযোগ থাকে, তাহলে সেই টাকা নিলেন কেন? নিজের ভোটে কাজে লাগালেন কেন?
3) যদি এখন নীতিগত আপত্তি থাকে, তাহলে সেই টাকা আগে ফেরত না দিয়ে অ্যাকাউন্ট নিয়ে অভিযোগ করলেন কেন? 
4) যদি কথা ওঠে অ্যাকাউন্টে বিতর্কিত টাকা আছে এবং সেই টাকা আপনার ভোটে ব্যবহার হয়েছে, তাহলে আপনাদের নির্বাচন আইনত অবৈধ ঘোষণা হবে না কেন?
  টাকা নিলেন। প্রতীক নিলেন। দলের প্রার্থীপদ নিলেন। সেই টাকায় ভোট করলেন। জিতলেন। এখন টাকা আর অ্যাকাউন্ট খারাপ হয়ে গেলো???? টাকা নেওয়ার সময়ে মনে ছিল না??'