আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা ভোটের ফলাফলে ধরাশায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যপাট গিয়েছে। এরপরই শুরু জোড়া-ফুলে ভাঙন! দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ষাটের বেশি 'বিদ্রোহী' শিবিরে। এর মধ্যে রয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির একদা অতি আস্থাভাজ ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসও। লোকসভার 'বিক্ষুব্ধ' ২০ জন সাংসদ নাম লিখিয়েছে এনসিপিআই-তে। আপাতত বিধায়কদের মধ্য়ে কালীঘাটপন্থী তালিকায় শোভদেব চ্যাটার্জি, মদন মিত্র, বিমান ব্যানার্জি, কুণাল ঘোষেরা। ইতিমধ্যেই ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন দলের 'বিদ্রোহী' গোষ্ঠীকে 'বেইমান' বলে তোপ দাগছেন কালীঘাটপন্থীরা। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করলেন তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক তথা দলের উত্তর  কলকাতা জেলার সাগঠনিক সভাপতি কুণাল। 

বিধায়কের সাফ কথা, '৪ মে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার পরাজিত হওয়ার পর খারাপ লেগেছিল। নিজের দল হারলে যেমন লাগে। বেলেঘাটায় আমার জয়টাও তেমন আনন্দ দিতে পারেনি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে যা হয়েছে, ভালো হয়েছে।'

হঠাৎ কী কারণে এই চাঁচাছোলা পোস্ট? কুণাল ঘোষ সোশাল মিডিয়া পোস্টে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। লিখেছেন, 'যদি তৃণমূল জিতত, এই বিশ্বাসঘাতকরাই স্তাবক হয়ে দিদিকে ঘিরে রাখত; যারা সুবিধেবাদী, তারাই বন্ধু সেজে আমাদের সঙ্গে মিশত; কিছু চোরডাকাত, যারা নিজেদের বাঁচাতে সাধু সাজছে, তারা আরও লাগামছাড়া চুরি করত; দলের কারুর কারুর ঔদ্ধত্য ও অহঙ্কার আরও বাড়ত; কিছু দলে ঢোকা ক্রিমিনাল বিরোধীদের উপর বাড়াবাড়িরকম দমনপীড়ন করত, দলের একাংশকেও ছাড়ত না; কিছু অরাজনৈতিক সেলিব্রিটি অকারণে মঞ্চ আলো করে বসে জনপ্রতিনিধির সুবিধে নিত; একাংশের পুলিশ, আমলা, বুদ্ধিজীবী, শিল্পমহল, হাফবুদ্ধিজীবী কিছু মুখোশধারী দলটাকে আরও ব্যবহার করে নিজেদের অঙ্ক সাজাতো। এবং প্রকৃত কর্মী, সংগঠক, শুভানুধ্যায়ীরা উপেক্ষিত থাকতেন। বুকভরা অভিমান নিয়ে দমবন্ধ অবস্থা নিয়ে পিছনের বেঞ্চে বসে দলটা করতেন।'

এরপরই তৃণমূলের শুদ্ধিকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন কুমাল। লেখেন, 'এই ভোটের ফল হয়ত দলের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু আবর্জনা সাফ করে মানুষ চিনতে সাহায্য করেছে। মাথার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সর্বত্র দলকে প্রকৃত ভালোবাসা কর্মীরা। তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই চালাবে। মেদ ঝরেছে, মেদ ঝরছে, আপাতদৃষ্টিতে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও সময়ের পরীক্ষা দলকে আগামীর জন্য শক্তিশালী করছে।
 আরে, ক্ষমতামুখী সুবিধেবাদী স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্যেও দম দরকার। মানুষ নজর রাখছেন। তাঁদের বিচারই শেষ কথা।'

উল্লেখ্য, এখন কারা আসল এবং কারা নকল তৃণমূল তা নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে। একটা কালীঘাট তৃণমূল। অন্যটা ঋতব্রতদের তৃণমূল। দলের রাশ নিয়ে আইনি বিবাদ পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা। সম্প্রতি, ২১ জুলাই নিয়েও দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে এই দুই তৃণমূলের। কালীঘাটের তৃণমূলের মতো ভিক্টোরিয়া হাউজেই শহিদ দিবস পালন করতে চান 'বিদ্রোহী'রা। এদিকে শহিদ দিবসের এই সমাবেশ নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি যখন তোলপাড়, সেইসময় ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করল দলের কালীওঘাট শিবির। ঋতব্রত তৃণমূলের বিরুদ্ধে থানায় গিয়েছে মমতাপন্থীরা।