আজকাল ওয়েবডেস্ক: কখনও তিনি রণরঙ্গিণী কালি, কখনও আবার কপালে ত্রিনয়ন আঁকা নীলকণ্ঠ শিব। রাজপথে তাঁদের এই রূপ দেখে অভ্যস্ত শহরবাসী। কিন্তু সেই শিল্পের আড়ালেই যে এমন 'কেলেঙ্কারি' লুকিয়ে ছিল, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। খাস কলকাতার রাজপথে বহুরূপীর ছদ্মবেশে পকেটমারি করার অভিযোগে এক চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ।
বাংলার প্রাচীন লোকশিল্প ‘বহুরূপী’ আদতে বীরভূম-মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্য। গ্রামীণ মেলা বা পার্বণে দেবদেবী সেজে সাধারণের মনোরঞ্জন করাই এই শিল্পের মূল কথা। কিন্তু পুলিশের দাবি, এই শিল্প ও শহরবাসীর আবেগকেই ঢাল করেছিল একদল পেশাদার দুষ্কৃতী।
লালবাজার সূত্রে খবর, জোড়াসাঁকো এলাকায় চুরির একটি অভিযোগের তদন্তে নেমেই এই চক্রের হদিশ মেলে। অভিযুক্ত চারজন- আলিন রমজু সালাত, ধীরু কালোভাই সালাত, সমীরভাই সালাত এবং রাজু কুমার আসলে গুজরাটের আনন্দ জেলার বাসিন্দা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দেবদেবীর সাজে ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী হাতানোই ছিল এদের আসল পেশা।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিট এলাকা থেকে মহম্মদ শাহনওয়াজ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জেরা করেই এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তার হদিশ পান গোয়েন্দারা। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়,"শহরের মানুষের বহুরূপীদের প্রতি একটা আলাদা টান বা শ্রদ্ধা রয়েছে। সেই সুযোগ নিয়েই এরা মূলত দর্শকদের ভিড়কে লক্ষ্য করত।"
পুলিশ জানিয়েছে কালি, শিব বা দুর্গা সেজে সাধারণের আশীর্বাদ করার অছিলায় কাছে আসে দুষ্কৃতীরা৷ ভিড়ের মধ্যে থাকা পথচারীদের দামী স্মার্টফোন, টাকা-পয়সা, ঘড়ি ইত্যাদি ছিনতাই করে৷ প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা সকলেই ভিনরাজ্যের পেশাদার পকেটমার।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রটি শুধু কলকাতাতেই সীমাবদ্ধ, এমন নয়৷ পুলশের অনুমান এরা রাজ্যের অন্য জেলাতেও সক্রিয়। এই চক্রের বাকিদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
