আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখা। ভুয়ো পরিচয়ে সিবিআই, ইডি ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার নাম ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩.০১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মহম্মদ আমজাদ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিম বক্স, সিম কার্ড ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। 

পুলিশ সূত্রে খবর, বিধান ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবরের আগে বিধানকে ফোন করে নিজেকে একটি নামী কুরিয়ার সংস্থার প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেন এক ব্যক্তি। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, ফোন করা ব্যক্তি দাবি করেছিল তাঁর নামে পাঠানো একটি পার্সেলে নাকি অবৈধ সামগ্রী রয়েছে এবং বিষয়টি সিবিআই ও ইডি-র তদন্তাধীন। এরপর অপর এক ব্যক্তি নিজেকে সিবিআই অফিসার বলে পরিচয় দিয়ে ভিডিও কল করে। ভুয়ো পরিচয়পত্র দেখিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগকারী ও তাঁর স্ত্রীকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ সারাক্ষণ ভিডিও কলে চালু রাখতে বাধ্য করা হয়, যাতে তথাকথিত ‘সিবিআই নজরদারি’ চালানো যায়।

পরে আরও দু’জন ব্যক্তি নিজেদের সাইবার ক্রাইম বিভাগের উচ্চপদস্থ আইপিএস অফিসার ও ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর আধিকারিক পরিচয় দেন। তাঁরা সিবিআই, আরবিআই, ইডি ও সুপ্রিম কোর্টের লোগো সম্বলিত জাল নথি পাঠিয়ে ‘তহবিল যাচাই’-এর নামে টাকা স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে আইনি জটিলতা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে অভিযোগকারী মোট ৩.০১ কোটি টাকা অভিযুক্তদের দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন।

পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।  তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৬সি/৬৬ডি ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর একাধিক ধারায় মামলা শুরু হয়।

দীর্ঘ তদন্তের পর ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল প্রায় ৪টা ১০ মিনিট নাগাদ পার্ক স্ট্রিট থানার অন্তর্গত মার্কুইজ স্ট্রিটের একটি দোকান থেকে আমজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে— ৩২ স্লটের ৬টি সিম বক্স, ১২৮-স্লটের ৫টি সিম বক্স, ২৫৬-স্লটের ১টি সিম বক্স, ১টি ল্যাপটপ, ৯টি রাউটার, ১টি ওয়াই-ফাই দিয়ে চলে এমন সিসিটিভি ক্যামেরা, ১৭টি মোবাইল হ্যান্ডসেট, ২,২৫০টি সিম কার্ড, অ্যাডাপ্টার, কানেক্টর, LAN কেবল সহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী।

পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া সিম বক্স ও বিপুল সিম কার্ড ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কল রাউটিং ও পরিচয় গোপন রেখে প্রতারণা চালানো হত। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সকলকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, কোনও সরকারি সংস্থা কখনওই ফোন বা ভিডিও কলের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তরের নির্দেশ দেয় না। এ ধরনের সন্দেহজনক ফোন পেলে অবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় বা সাইবার হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার আবেদন জানানো হয়েছে।