আজকাল ওয়েবডেস্ক: বছরের শুরুতেই ভোর রাতে খাস কলকাতায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ফের শহরের বুকে আবারও ভাঙাচোরা বাড়ির বলি এক নিরীহ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে এক প্রৌঢ়ার। আহত হয়েছে শিশু-সহ আরও একাধিক বাসিন্দা। 

সোমবার ভোর রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পার্ক সার্কাসের লোহাপুল এলাকায়। সোমবার ভোরে চাঙড় ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধার। মৃতের নাম রাবিয়া খাতুন। একই ঘটনায় শিশু-সহ আরও তিন জন গুরুতর আহত হয়েছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ সোমবার ভোর প্রায় তিনটে নাগাদ লোহাপুল এলাকার একটি পুরনো তিনতলা বাড়িতে আচমকাই ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা। বাড়িটির একতলায় ভাড়া থাকত একটি পরিবার। ভোর রাতে ঘুমের মধ্যেই হঠাৎ ছাদের সিলিংয়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে পরিবারের ঘুমন্ত সদস্যদের উপর। মুহূর্তের মধ্যেই কান্নায় ও চিৎকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।

ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন রাবিয়া খাতুন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে তাঁকে এবং আরও চার জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা রাবিয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে এক শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও, অপর এক শিশু-সহ আরও দু’জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর কড়া নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা। 

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ব্যারিকেড করে ঘিরে ফেলে। সম্ভাব্য আরও বিপদের আশঙ্কায় বাড়ির আশপাশে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় ছিল। এক প্রতিবেশীর কথায়, “এটা খুব পুরনো বাড়ি। বহুবার ভাড়াটিয়ারা বাড়ির মালিককে মেরামতির কথা বলেছেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাড়ির মালিকের দায়িত্ব আছে। এভাবে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা চলতে পারে না।” 

ফের একবার প্রশ্ন উঠল শহরের জরাজীর্ণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে। প্রশাসনের নজরদারি ও বাড়ির মালিকদের দায়িত্বহীনতার জেরে কি আরও এমন প্রাণহানির অপেক্ষা করছে কলকাতা? তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।