আজকাল ওয়েবডেস্ক: শহরের অভিজাত আবাসন এলাকা ডায়মন্ড সিটি ওয়েস্টে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। সরশুনা থানার অন্তর্গত ওই আবাসনে একটি ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না ও নগদ অর্থ চুরির অভিযোগ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে কোনও এক দিন সকাল আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে অজ্ঞাত পরিচয় ওই যুবক ডায়মন্ড সিটি ওয়েস্টের টাওয়ার ৩-এর একটি ফ্ল্যাটে চুরি করেন। অভিযুক্তের নাম হর্ষবর্ধন সাউ। বয়স  ১৯ বছর। বাবা জগদীপ সাউ, পেশায় কলকাতা কর্পোরেশনের ব্রোকার কাম কনসালটেন্ট। ডায়মন্ড সিটির টাওয়ার নম্বর ৩-এর বাসিন্দা। হর্ষবর্ধন ভবানীপুরের জেটকিং কলেজের বিসিএ ছাত্র বলেই পুলিশ সূত্রে খবর।

অভিযোগকারিণী রানি শুক্লা (৪২) তার লিখিত অভিযোগে জানান, তাঁর ফ্ল্যাট থেকে প্রায় সাড়ে ২৬ লক্ষ টাকা নগদ-সহ বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না চুরি হয়। চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একাধিক সোনার চুড়ি, ব্রেসলেট, হার, কানের দুল, আংটি, চেন, নাকফুল, মঙ্গলসূত্র, সোনার বিস্কুট ও সোনার কয়েন। উল্লেখযোগ্যভাবে তালিকায়, একটি ভারী ঝুমকো সেট ও একাধিক উচ্চমূল্যের সোনার বিস্কুটও রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সরশুনা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়।তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সাহায্যে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে এবং গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে আরও খবর, অভিযুক্ত যুবক একই টাওয়ারে বাস করতেন পরিবারের সঙ্গে। রানীর ঘরে আগে থেকেই যাতায়াত ছিল ওই যুবকের। দুই পরিবারে ভাল সম্পর্কও ছিল। ঘটনার সময় রানী ঘরে  উপস্থিত ছিলেন না। ঘুরতে গিয়েছিলেন, ফলে বাড়ি ছিল ফাঁকা। আর সেই সময় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, যুবক প্রেমের সম্পর্কে ছিল তাঁর বান্ধবীর সঙ্গে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পড়াশোনার সূত্রেই তাঁদের দু’জনের সম্পর্ক। প্রেমিকার দাবি মেটাতে গিয়েই মূলত এই ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়েছে ওই যুবক। মূলত পূর্বপরিচয় থাকার কারণে এবং বাড়িতে অবাধ যাতায়াত থাকার কারণে ঘরের সবটা তাঁর ছিল নখদর্পণে। ফলে চুরির মত ঘটনা ঘটাতে তার অনেকটাই সুবিধা হয়েছে। তবে পুলিশের অনুমান, তাঁর একার পক্ষে এত বড় ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত ছিল। সবটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

 ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ ডায়মন্ড সিটি ওয়েস্টেরই টাওয়ার–৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী হর্ষবর্ধন সাউ’ নামের এই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের বাড়ির সামনেই তাঁকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরির ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি চুরি যাওয়া সমস্ত সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত এখনও চলছে। এই ঘটনার পর আবাসন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

লালবাজার পুলিশ সূত্রে খবর, এই যুবককে আজ আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাকে পুলিশি হেফাজতে নির্দেশ দিয়েছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।