আজকাল ওয়েবডেস্ক: খাদ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজ্যের একাধিক পদক্ষেপ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ফুড সেফটি কমিশনারের নির্দেশে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে গত ৩০ জানুয়ারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় মুচিবাজার এলাকায় এক বিশেষ নজরদারি অভিযান চালানো হয়। ১৩ নং ওয়ার্ডে এই অভিযানে ব্যবহৃত হয় আধুনিক ফুড সেফটি অন হুইলস (FSW) ভ্যান।
প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে মোট ১৫টি দোকান পরিদর্শন করা হয়। অভিযান চলাকালীন ৩১টি খাদ্যনমুনা সংগ্রহ করে কর্মীরা পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় ছ’টি নমুনা মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়। ব্যর্থ নমুনাগুলির মধ্যে রয়েছে, দেড় কেজি চিকেন রোলের স্টাফিং, তিনটি দোকান থেকে সংগৃহীত মোট প্রায় দু’কেজি হলুদ গুঁড়ো, সাড়ে দিন কেজি মুগ লাড্ডু এবং দু’কেজি চিকেন কষা। সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানের পাশাপাশি খাদ্য বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোট ১০টি সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়, যেখানে ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও ২০ জন খাদ্য ব্যবসায়ী ও কর্মীদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বার্তা পৌঁছে দিতে কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খাদ্য বিক্রেতা ও উপভোক্তাদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
অভিযান চলাকালীন খাদ্য সরবরাহকারীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। রান্না করা ও আধা-রান্না খাদ্য যথাযথভাবে ঢেকে রাখা, প্রতিটি স্টলে ঢাকনাযুক্ত আবর্জনার বিন রাখা, কৃত্রিম রং ও খোলা মসলা ব্যবহার বন্ধ করা এবং ভাজা খাদ্যে বারবার একই তেল ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি পানীয় জল পরিষ্কার ও খাদ্যের গুণগতমান ঠিক রাখতে ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জনস্বার্থে এই ধরনের নজরদারি অভিযান আগামী দিনেও নিয়মিতভাবে চলবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পেতে পারেন।
