আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী 'সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ'-এর নাম বদলকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তুমুল বিতর্ক। সম্প্রতি এই রাস্তাটির নাম পরিবর্তন করে গোপাল মুখার্জির নামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা কর্পোরেশন। রবিবার একটি টুইট করে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ওই টুইটে ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর দিকে ইঙ্গিত করে জানান, যাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন তাঁদের নাম মুছে ফেলে গোপাল মুখার্জির মতো মানুষদের সম্মান জানানো হচ্ছে, যিনি সেই সময় বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে আসরে নেমেছে সিপিআই(এম)।

বামেদের দাবি, এই নাম বদলের নেপথ্যে চরম ইতিহাস বিকৃতি রয়েছে। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই রাস্তাটি আদৌ বিতর্কিত নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে ছিল না। বরং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বুদ্ধিজীবী এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতিতেই এই রাস্তার নামকরণ করা হয়েছিল। এই তথ্য তুলে ধরে সেলিম সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা কি এই প্রাথমিক ঐতিহাসিক তথ্যটুকুও জানেন না? যদি না জানেন তবে তা তাঁদের চরম অজ্ঞতার পরিচয়, আর জেনেশুনে এমন প্রচার চালালে তা নির্লজ্জ মিথ্যাচার।

বাম নেতৃত্বের মতে, ইতিহাসকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই বিপজ্জনক প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। মহম্মদ সেলিম অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যে রাজ্য একদিন বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, জগদীশচন্দ্র বসুদের মতো মনীষীদের জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য বহন করেছে, সেখানে আজ তথ্য ও প্রমাণের বদলে আবেগ এবং অর্ধসত্যকে কাজে লাগিয়ে মেরুকরণের রাজনীতি চলছে, যা একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ছকের অংশ। এই ঘটনা সমগ্র বাংলার সাংস্কৃতিক পরম্পরার প্রতি এক চরম অপমান বলে মনে করছে সিপিআই(এম)। এর পাশাপাশি ২০ জুন 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' পালন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে 'বাংলার জনক' বলার বিষয়টিকেও শাসক দলের অর্ধসত্য ও ইতিহাস বিকৃতির প্রমাণ হিসেবেই দাবি করেছে তারা।