আজকাল ওয়েবডেস্ক: জল্পনা গত কয়েকদিনের। সেই জল্পনার অবসান। বাংলার রাজনীতিতে জন্ম নিল মমতা-হীন তৃণমূল? কারণ, ৫৮ বিধায়কের সই নিয়ে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুক্ষণ আগেই পৌঁছে যান বিধানসভার স্পিকারের কাছে। তাতে উল্লিখিত, ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে, ৫৮জন একমত হয়েছেন, ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা বেছে নিতে একমত হয়েছেন। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তথ্য সামনে আসেনি। 

 

তবে এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, ঋতব্রতদের চিঠিতে যদিও দলনেত্রী হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়েছে মমতা ব্যানার্জিকেই। 

 

এই জল্পনার অবসানের সূত্রপাত, কয়েকঘণ্টা আগে থেকেই, ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাড়ে ১০টা। বিধানসভায় একে একে ঢুকতে শুরু করেছেন তৃণমূল বিধায়করা। তবে সবার নজর কেড়ে সকাল সকালই সেখানে হাজির হয়েছেন সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি। তাঁর পরপরই বিধানসভায় প্রবেশ করেন চাঁচোলের বিধায়ক প্রসূন ব্যানার্জি, বোলপুরের চন্দ্রনাথ সিনহা, গোলাম রব্বানী এবং সাবিনা ইয়াসমিনের মতো প্রবীণ ও পরিচিত মুখেরা। দল ভাঙার এই উত্তেজনার পারদ কতটা চড়েছে, তা চন্দ্রনাথ সিনহার একটি মন্তব্যেই পরিষ্কার। বিধানসভায় ঢোকার মুখে তাঁকে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন যে ‘বিরোধী দলনেতা কে?’ তিনি একগাল হেসে উত্তর দেন, ‘কিছুক্ষণের মধ্যেই তা জানতে পারবেন’। অন্যদিকে সাবিনা ইয়াসমিন সরাসরি বলে বসেন, ‘বিরোধী দলনেতা বাছতে এসেছি’।

নির্বাচনের আগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি বাংলার মানুষকে বলেছিলেন, ২৯৪টি কেন্দ্রের প্রার্থী আসলে তিনিই নিজে। কিন্তু ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর পরিস্থিতি যেভাবে ঘুরে গেছে, তাতে অনেকেই মনে করছেন মমতার হাত থেকে বোধহয় তৃণমূলের রাশ আলগা হতে শুরু করেছে। গতকাল বিধানসভার স্পিকার উপস্থিত ছিলেন না, তবে আজ তিনি এসেছেন। সেই কারণেই, আজই জমা দেওয়া হল চিঠি।