আজকাল ওয়েবডেস্ক: তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন। দুই লেবার সাপ্লায়ার মহম্মদ আতাউল, সুভাষ সরকার এবং সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শ্রমিকদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেপ্তারি।
এছাড়া, এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছেন যে, ওই নির্মাণের নকশায় ত্রুটি ছিল। ত্রুটি যুক্ত নকশাতেই চলতি বছরের গোড়ায় অনুমোদন দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। সেসময়ে কলকাতা পুরসভা ছিল তৃণমূলের হাতে।
জানা গিয়েছে, তদন্তের আওতায় থাকবে তিনটি বিষয়। প্রথম বিষয়ের মধ্যে থাকছে, কিভাবে দূর্ঘটনা ঘটল? দ্বিতীয় বিষয় নজর দেওয়া হবে, যে জমির উপরে নির্মাণ কাজ চলছিল সেই জমির ধারণ ক্ষমতা কতটা? এবং নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগতমান। পরবর্তীতে দেখা হবে এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না।
এছাড়াও আতস কাচে কলকাতা পুরসভার ভূমিকাও। গোডাউন তৈরির জন্য কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে কে বা কারা অনুমোদন দিয়েছিল, তা খতিয়েদেখবে পুলিশ। ইতিমধ্য়েই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তালিকাও তৈরি করছে পুলিশ। তাদেরকেতৎকালীন আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সূত্রের খবর। ভেহে পড়া গোডাউনের প্ল্যান, নথি ইতিমধ্যেই হাতে পেয়েছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশের নজরে বেহেরা ব্রাদার্সও। দুর্ঘটনার পর থেকে তাদের কারোর সন্ধান না মিলছে না। ফলে জোরকদমে তাদের খোঁজে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। এর পাশাপাশি নজর রয়েছে, এআর ট্রেডার্স নামে একটি সংস্থার উপরে। বেহেরা ব্রাদার্স নির্মাণ কাজ করানোর জন্য এ আর ট্রেডার্সকে বরাত দেয়। সেই চুক্তিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই তদন্ত শেষ হলেই শুরু হবে দোষীদের চিহ্নিতকরণ ও শাস্তির কাজ বলে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
বুধবার দুপুরের দিকে তারাতলা থানা এলাকায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে একটি নির্মীয়মান গোডাউনের বিশাল লোহার শেড ও ছাদ। তারাতলার ব্রেসব্রিজের কাছে ট্রান্সপোর্ট ডিপো সংলগ্ন এলাকায় এই বিপর্যয় ঘটে। এই দুর্ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০ জনকে জীবন্ত উদ্ধার করা গিয়েছে। এখনও অনেকে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে তাকতে পারে বলে আশঙ্কা। চলছে উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন মুক্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে এই বিপর্যয়ে জখম ব্যক্তিদের সঙ্গেও দেখা করেন।















