আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধায়কদের সই জাল মামলায় আজই সিআইডির কাছে হাজিরা দিতে হবে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিকে। সন্ধে ৬ টার মধ্যে হাজিরা দিতে হবে অভিষেককে। একইসঙ্গে তাঁর জন্য তিন সপ্তাহের ‘সুরক্ষাকবচ’ও জারি করেছে আদালত। সই জাল কাণ্ডের তদন্তে ক্রমশ চাপ বাড়ছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির ওপর। সিআইডির তলব সত্ত্বেও টানা তিনবার হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। তৃতীয়বার দিল্লিতে থাকার কারণ দর্শিয়ে সময় চেয়েছেন। অভিষেকের ওপর নজরদারি বাড়াতে সরাসরি এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছিল সিআইডি।
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেক ব্যানার্জিকে। সেই কারণেই তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ে তদন্তকারী সংস্থার সামনে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী তিন সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেছে আদালত।
শুনানিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে আদালত। বিচারপতি জানান, অভিষেক ব্যানার্জিকে "জাল নথি" পেশ করতে বাধ্য করা যাবে না। যে নথিকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে, তা আইনসম্মত তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তির প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্তকারী সংস্থাকেই সংগ্রহ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ঘটনার তদন্তে মঙ্গলবার মমতা ব্যানার্জির কালীঘাট বাসভবনের কাছে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় সিআইডি। রেজোলিউশনের কপির সন্ধানে দীর্ঘক্ষণ সেখানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা।
তদন্তের সূত্রপাত ভোটের ফল ঘোষণার পর। ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তীকালে বিধানসভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাবপত্র জমা দেওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, ১৯ মে কালীঘাটে ফের বৈঠকে বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়। বিধানসভায় জমা দেওয়া ৭০ জনের সই সম্বলিত প্রস্তাবপত্র এবং প্রাথমিক সইয়ের মধ্যে গরমিল পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে বিধানসভা সচিবের। এরপরই থানায় দায়ের হয় এফআইআর এবং তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। দলেরই এক ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের আঙুল অভিষেকের দিকে ওঠায় তদন্তের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। সিআইডির এই তলব থেকে রক্ষাকবচ পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল।















