দীক্ষা ভুঁইয়া
শুক্রবার নিট পরীক্ষার দুর্নীতি নিয়ে আন্দোলনের সময় গোলমালের ঘটনায় মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচটি করেছিলেন সাংবাদিকরা, একটি ছিল পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) মামলা এবং অপরটি মৌলালির সামনে সংঘটিত গোলমালকে কেন্দ্র করে দায়ের হয়েছিল। পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলাতেই ওই ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার আজ সেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে ওই মামলায় অভিযুক্ত সকলেই জামিন পেয়েছেন।
গত ২৪ জুলাই নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে মিছিলের ডাক দিয়েছিল বাম সংগঠনগুলি। মিছিল ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে আসতেই বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। সিজেপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনের মিছিল ঘিরে একেবারে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা পরিস্থিতি। ধর্মতলার মোড় কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রতিবাদকারীরা পুলিশকে টার্গেট করে বোতল এবং জুতো ছুঁড়তে থাকে। আন্দোলনকারীদের রুখতে কাঁদানে গ্যাস চালায় পুলিশ।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে কয়েক জনের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ধর্মতলার মিছিলে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুলিশ অন্তত ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাঁরা ছাত্র নন এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সদস্যও নন। এই ঘটনায় মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সোমবার তদন্তের অংশ হিসেবে ধৃতদের মধ্যে পাঁচ জনকে ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিং এলাকায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্ট আটক ছাত্রদের ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সকল রাজ্যকে। দেশের শীর্ষ আদালত ১৮ বছরের কম বয়সী এবং কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন ছাত্র বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভ সম্পর্কিত ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করতেও বলেছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ, যেসব রাজ্যে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সকল রাজ্যকে বিক্ষোভ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন রেকর্ডিং, বডি-ক্যামেরা ফুটেজ, ওয়্যারলেস যোগাযোগের রেকর্ড, পিসিআর লগ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে।
















