আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতার আলিপুর কোর্ট চত্বরে অবস্থিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিংয়ে বুধবার বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বেলভেডিয়ার রোডের ওই বহুতল প্রশাসনিক ভবনে আগুনের ভয়াবহতার কারণে প্রথমে তিনটি দমকল ইঞ্জিন এবং পরবর্তীতে আরও সাতটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকলকর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। 

 

দমকল সূত্রে প্রাথমিক অনুমান, চারতলা অর্থাৎ থার্ড ফ্লোরে শর্ট সার্কিটের জেরেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আর সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে কীভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ল, আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

 

বলাবাহুল্য, এই চারতলায় অর্থাৎ থার্ড ফ্লোরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের সভাধিপতি জাহাঙ্গীর খান ওরফে স্বঘোষিত 'পুষ্পা'র প্রশাসনিক কার্যালয় রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের সভাধিপতি হওয়ার কারণে। 

 

উল্লেখ্য, আজ সকালে সাড়ে ন'টার সময় অফিস শুরু হওয়ার আগে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এসি থেকে শর্ট সার্কিট হওয়ার কারণে। আর সেখানেই প্রশ্ন? অফিস শুরু হওয়ার আগে যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকে, সেখানে কিভাবে শর্ট সার্কিটের কারণে এসি থেকে আগুন লাগল? 

 

সূত্রের খবর, থার্ড ফ্লোর অর্থাৎ চারতলায় যেখানে আগুন লাগে সেই স্থানটি তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাধিপতি জাহাঙ্গীর খানের কার্যালয়ের আশেপাশে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে সন্দেহের সূত্রপাত। সূত্রের আরও খবর, এই জাহাঙ্গীর খানের দুর্নীতির সকল বেআইনি তথ্য ও নথি জমা ছিল তাঁর সকল কার্যালয়গুলিতে। আলিপুরের প্রশাসনিক ভবনে এই কার্যালয়েও বহু বেআইনি নথি ও তথ্য লুকিয়ে রাখা ছিল বলে অভিযোগ। 

 

গত সোমবার নেপাল থেকে একাধিক দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় এই জাহাঙ্গীর খান ওরফে ফলতার স্বঘোষিত 'পুষ্পা'। আর তারপরেই আলিপুরের এই বহুতল প্রশাসনিক ভবনে তাঁর কার্যালয়ের আশেপাশের এলাকা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। আর সেখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। সেখান থেকেই প্রশ্ন, তবে কি একসময়ের প্রভাবশালী জাহাঙ্গীর প্রভাব খাটিয়ে তাঁর অফিসের সমস্ত নথি জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্যই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে! নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র? সবটাই তদন্ত করে দেখবে পুলিশ। 

 

দমকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজ চলবে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে সম্পূর্ণ আগুন নিয়ন্ত্রণে না নেওয়া পর্যন্ত তদন্ত ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। এই ঘটনার পেছনে কি আসল রহস্য তা তদন্ত পূর্ণাঙ্গ হলে তবেই তা স্পষ্ট হবে। এখনই এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।