আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত কয়েকদিনের প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই প্রস্তুতি শেষে, রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে, কলকাতায় মেগা ইভেন্ট। রেড রোড-সহ কলকাতা এবং এজলায় জেলায় বিপুল আয়োজন। রেড রোডে ভোর থেকেই উপস্থিত দেশের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল-সহ একাধিক নেতা-নেত্রী, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং কাতারে কাতারে সাধারণ মানুষ। এই বিপুল সমাগমের মাঝেই, বিজেপির সজলের গলায় বাম নেতা বিকাশরঞ্জনের নাম।
কী বলছেন সজল ঘোষ? বরানগরের বিধায়ক বলে বসেন, ' বিকাশবাবুকে ডেকে আনুন না। যখন সুযোগ পেয়েছেন তার পরেও কোর্টে চলে গিয়েছেন। ওঁকে নিয়ে এসে ভাল করে যোগা করা উচিৎ।'
রেড রোডে যোগ দিবস পালন থেকে, যোগ দিবসের দিনের হাজিরা, সব মিলিয়ে আয়োজনের মাঝেই গত কয়েকদিন ধরেই বিতর্কও হয়েছে। এদিন সেই প্রসঙ্গেই সজল ঘোষ বলেন, 'আসলে ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাওয়া। প্রথমে বলা হল নামাজ হতে দেয়নি। যাঁদের নামাজ, তাঁদের আওয়াজ ছিল না, বিকাশবাবুদের আওয়াজ ছিল স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত আদালতে গেলেন, সেখানেও যে ফলাফল পাওয়ার ছিল, পেয়েছেন।'
এর আগে, যোগ দিবসে সরকারি কর্মীদের উপস্থিতির নোটিশ নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। তবে, ১৯ জুন, নবান্নের তরফে জানানো হয়, কারও উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। কোনও সরকারি কর্মী উপস্থিত না হলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। সরকারের এই বিবৃতির পর এবার যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মীদের যোগ দেওয়া নিয়ে মুখ খোলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এক ভিডিও বার্তায় বিকাশরঞ্জন বলেছিলেন, ‘যারা যথার্থই মনে করেন যে এই সমস্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াটার পিছনে কোনোরকম যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই, শুধুমাত্র এই একটা যোগ অনুষ্ঠানে যোগ করলে পরেই স্বাস্থ্যের খুব উন্নতি হয়, এসব যারা ভাবেন না তারা নিজেরা স্বাধীন চিন্তায় অংশগ্রহণ নাও করতে পারেন। তাতে কিচ্ছু যায় আসবে না।’
সঙ্গেই এই অনুষ্ঠানের জন্য কলকাতা শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা রেড রোডকে বিগত সাত দিন, আট দিন ধরে আটকে রাখার হয়েছে 'অযৌক্তিকভাবে, অবৈজ্ঞানিকভাবে', তেমনটাও বলেছিলেন তিনি।
সরকারিভাবে যোগ দিবস পালিত হচ্ছে রাজ্যে, সজল বলেন 'যোগ আধ্যাত্মিক, শারীরিক। যোগ আমার, আমাদের, ভারতের। যেটা আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম, ভুলে গিয়েছিলাম আমরা। আবার আমার করে দিয়েছেন যিনি, তাঁর নাম নরেন্দ্র মোদি।'
তবে, ব্যক্তি জীবনে সজল ঘোষ, কতটা যোগাভ্যাসের মধ্যে থাকেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি নেতা বললেন, 'যোগাভ্যাস আমি করি না, তবে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার মতো বদভ্যাসও আমার নেই।'
উল্লেখ্য, যোগ দিবসের সকালে, মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ আজকাল ডট ইন-কে বলেন, 'বিতর্ক যাঁদের করার, তাঁরা করবেনই। আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একসময় বলেছিলেন বিরাসত ও বিকাশ। আজকের দিনে দাঁড়িয়েও ভারতবর্ষের মানুষের আমাদের ঐতিহ্য, উত্তরাধিকার সম্পর্কে যে গর্ব বোধ তৈরি হওয়া উচিত, পশ্চিমবঙ্গ তার থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছে।'















