আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরজি কর হাসপাতালের মর্মান্তিক ঘটনার পর সেমিনার রুমের ক্রাইম সিনে উপস্থিত থাকা এবং তথাকথিত 'উত্তরবঙ্গ লবি'-র অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে গত ২৩ মে, ২০২৬ তারিখে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে অভীক দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা (Departmental Proceedings) শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। নতুন এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, অনৈতিকভাবে 'সার্ভিস কোটা'র সুবিধা নিয়ে তাঁর পিজি কোর্সে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি পৃথক তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
আইএমএ (IMA)-র পক্ষ থেকে তোলা পুরোনো অভিযোগের নথিতে দেখা যাচ্ছে, অভীক দে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের আরএমও (RMO) হিসেবে কর্মরত থাকলেও, তৎকালীন অধ্যক্ষ ডা. কৌস্তভ নায়েক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁকে একটি গ্রামীণ হাসপাতালের মিথ্যা শংসাপত্র পাইয়ে দিয়েছিলেন। যার ওপর ভিত্তি করে তিনি অন্যায়ভাবে সার্ভিস কোটায় পিজি হাসপাতালে (SSKM) ভর্তি হন। এই উপকারের পুরস্কারস্বরূপ ডা. কৌস্তভ নায়েককে পরবর্তীতে ডাইরেক্টর অফ মেডিকেল এডুকেশন (DME) পদে উন্নীত করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি আরজি করের ঘটনার পর কলকাতার তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল সংবাদমাধ্যমের সামনে এই অভীক দে-কে আড়াল করতে 'ফিঙ্গারপ্রিন্ট এক্সপার্ট' বলে দাবি করেছিলেন, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।
আইএমএ বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, এই অভীক দে-র বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে আরএমও হয়েও ইনভিজিলেটরের কাজ করা, পছন্দের পরীক্ষার্থীদের মোবাইল দেখে উত্তর বলে দেওয়া এবং অপছন্দ হলে ভালো ছাত্রকেও ফেল করিয়ে দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। ডা. সুদীপ্ত রায়ের নেতৃত্বে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিল ও হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে চলা 'থ্রেট কালচার' ও দুর্নীতির অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন তিনি।
আইএমএ-র পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি দাবি তোলা হয়েছে যে, এই তথাকথিত উত্তরবঙ্গ লবির নেপথ্যে মূল যে ‘মাথা’ বা মদতদাতা রয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে তাঁকেও যেন অবিলম্বে সামনে আনা হয়।















