আজকাল ওয়েবডেস্ক: শহর কলকাতায় বসে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার জাল! অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে ৩ কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগে এক বিশাল চক্রের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখা। এই অভিযানে উদ্ধার হয়েছে হাজার হাজার সিম কার্ড এবং অত্যাধুনিক ‘সিম বক্স’ প্রযুক্তি। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর বাংলাদেশ যোগ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা বিদেশে পাচারের সূত্র।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের অক্টোবরে, যখন পর্ণশ্রী এলাকার বাসিন্দা বিধান ঘোষ দস্তিদার নামে এক অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারকে সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে ফোন করে প্রতারকরা। ভুয়ো পার্সেল মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে তাঁর থেকে ৩.০১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, প্রতারকরা বিএসএনএল নম্বর ব্যবহার করলেও আদতে তারা ‘সিম বক্স’ প্রযুক্তির আড়ালে লুকিয়ে ছিল। এই প্রযুক্তিতে বিদেশের ইন্টারনেট কলকে স্থানীয় কলের মতো দেখানো হয়, ফলে অপরাধীদের উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
&t=1sলালবাজারের গোয়েন্দারা গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আবির শেখ ওরফে মনিরুল ইসলাম সাজিবকে গ্রেপ্তার করার পর এই চক্রের হদিস পায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট এবং উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে তল্লাশি চালিয়ে ১২টিরও বেশি সচল সিম বক্স এবং ২০০০-এর বেশি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে অর্পণ সিকদার এবং মোঃ আমজাদ নামে দুই যুবকও রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই সিম কার্ডগুলির বড় অংশই বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
যুগ্ম নগরপাল (অপরাধ) রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, প্রতারণার এই বিপুল টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সাইবার জালিয়াতির টাকা উদ্ধারের হার ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশ হয়েছে। জামতারা বা বিহারের গ্যাংগুলোর মতো এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন ছোট ছোট ‘সাইবার হাব’ তৈরি হচ্ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগের। এই চক্রের সাথে আরও কারা যুক্ত এবং সিম কার্ড সরবরাহের উৎস কী, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে লালবাজার।
