আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে রেল কর্তৃপক্ষের চালানো বেপরোয়া হকার উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল দমদম ক্যান্টমেন্ট স্টেশন। অবিলম্বে এই উচ্ছেদ বন্ধ করা, ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত পুনর্বাসন এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সিআইটিইউ (CITU) ও আইএনটিইউসি (INTUC)-এর পক্ষ থেকে এক যৌথ বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম নেতা ময়ূখ বিশ্বাস, কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং কংগ্রেস নেতা আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কোনও রকম বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত না করেই রেল কর্তৃপক্ষ যেভাবে একের পর এক স্টেশনে উচ্ছেদ চালাচ্ছে, তাতে হাজার হাজার গরিব হকার ও তাঁদের পরিবারের রুটি-রুজি আজ গভীর সংকটে। সম্প্রতি চাকদহ রেলওয়ে স্টেশনে এই তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার আবহে প্রমথ মণ্ডল নামে এক তরুণ রেল হকারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে ক্ষোভ উগরে দেন নেতৃবৃন্দ। উচ্ছেদের ভয়ে ও মানসিক অবসাদে ভুগেই প্রমথবাবুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি হকার সংগঠনগুলির। প্রমথের দোকানের সামনেই রেললাইন থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করে সিআইটিইউ এই অমানবিক ও বলপ্রয়োগের রাজনীতি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ময়ূখ বিশ্বাস, শুভঙ্কর সরকার এবং আশুতোষ মুখোপাধ্যায়রা স্পষ্ট জানান যে, হকাররা কখনোই রেলের আধুনিকীকরণ বা উন্নয়নের বিরোধী নন। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প-সহ রেলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অতীতেও হকাররা পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং যাত্রী পরিষেবা ও নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের দোকান স্টেশনের ভেতরেই অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করতে পিছপা হননি। কিন্তু উন্নয়নের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মারা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
শ্রমিক নেতৃত্বের দাবি, প্রতিটি স্টেশনে কোনও রকম জোরজুলুম না করে সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন এবং হকার সংগঠনগুলির যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে উন্নয়ন ও জীবিকার মধ্যে একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান সূত্র বের করা হোক। এই উচ্ছেদ রুখতে হকারদের বৈধ লাইসেন্স ও পরিচয়পত্র দেওয়ার পুরোনো দাবিটি আবারও জোরালোভাবে তোলা হয়। পুরো বিষয়টি সমাধানের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ, রাজ্য সরকার এবং রেল হকার সংগঠনগুলির মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। আজকের এই যৌথ বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সিআইটিইউ ও আইএনটিইউসি-এর পক্ষ থেকে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে এই মর্মে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়।















