আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রুনাল পাণ্ডিয়ার দাপটে ম্যাচে টিকে থাকল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। নির্ধারিত ওভারের শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে নাইটদের রান ১৭৪। তিন উইকেট নেন সিনিয়র পাণ্ডিয়া ব্রাদার। ফেরান অজিঙ্ক রাহানে, ভেঙ্কটেশ আইয়ার এবং রিঙ্কু সিংকে। তারমধ্যে পরের দু'জন বোল্ড। শুরুতে অজিঙ্ক রাহানে, সুনীল নারিন যেভাবে ব্যাট করছিলেন, মনে হয়েছিল কেকেআর অনায়াসেই ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যাবে। কিন্তু আরসিবিকে ম্যাচে ফেরান ক্রুনাল। তবে কেকেআরের অধিনায়কের প্রশংসা করতেই হবে। আইপিএলের মেগা নিলামের প্রথম দিন অবিক্রিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিন বেস প্রাইজ মাত্র দেড় কোটিতে তাঁকে কেনে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তারওপর আইপিএল চ্যাম্পিয়নদের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। না চাইতেই যেন সবকিছু চলে এসেছিল রাহানের হাতের মুঠোয়। তার প্রতিদান দিলেন মুম্বইয়ের অধিনায়ক। আইপিএলের ১৮তম সংস্করণে প্রথম অর্ধশতরান এল রাহানের ব্যাট থেকে। ৩১ বলে ৫৬ রান করে আউট হন। ইনিংসে ছিল ৪টি ছয়, ৬টি চার। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন সুনীল নারিন। ২৬ বলে ৪৪ রান করে আউট হন। তবে রাহানে-নারিন ছাড়া বাকিরা ব্যর্থ।
শুরুতে হোঁচট খায় কেকেআর। বেগুনি জার্সিতে অভিষেক মনের মতো হয়নি কুইন্টন ডি ককের। ম্যাচের দ্বিতীয় বল বাউন্ডারিতে পাঠান। আইপিএল ২০২৫ এর প্রথম বাউন্ডারি। প্রথম ওভারে হ্যাজেলউডের তৃতীয় বলে ক্যাচ দেন প্রোটিয়া তারকা। কিন্তু মিস করেন সুয়াশ শর্মা। আগের বছর পর্যন্ত এই মাঠেই কেকেআরের জার্সিতে খেলেন তরুণ স্পিনার। কিন্তু পুরোনো মাঠে শুরুটা ভাল হয়নি। অবশ্য তার খেসারত দিতে হয়নি। জীবন ফিরে পাওয়ার ফায়দা তুলতে পারেননি ডি কক। ওভারের পঞ্চম বলে উইকেটের পেছনে জিতেশ শর্মার হাতে ধরা পড়েন। ৪ রানে আউট হন। তবে দ্রুত প্রথম উইকেট হারানো সুনীল নারিন এবং অজিঙ্ক রাহানেকে দমাতে পারেনি। রসিক সালামের ওভারে বিধ্বংসী মেজাজে পাওয়া যায় রাহানেকে। ওভারে ১৬ রান নেন। তারমধ্যে ছিল দুটো ছয়। মাত্র ২৯ বলে ৫০ রানের পার্টনারশিপ। পাওয়ার প্লের শেষে ১ উইকেট হারিয়ে কেকেআরের রান ছিল ৬০। প্রথম তিন ওভার মাত্র ৯ রান। পরের তিনে ৫১।
দুর্দান্ত রাহানে। মাত্র ২৫ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছে যান কেকেআরের নেতা। ইনিংসে ছিল ৪টি ছয়, ৬টি চার। স্ট্রাইক রেট ২০০। শুরুতেই চমক রাহানে, নারিনের নতুন জুটির। ৯.৩ ওভারে ১০০ রানে পৌঁছে যায় কেকেআর। কিন্তু তারপরই পতনের শুরু। ব্যাক টু ব্যাক ওভারে আউট হন নারিন এবং রাহানে। ক্রুনাল পাণ্ডিয়া এসেই কেকেআরের ঝড় থামান। প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে আরসিবির কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার বলেছিলেন, ক্রুনাল স্মার্ট ক্রিকেটার। তাই তাঁকে নেওয়ার জন্য অলআউট ঝাঁপিয়েছিল বেঙ্গালুরু। ফ্র্যাঞ্চাইজির সিদ্ধান্ত যে সম্পূর্ণ সঠিক ছিল, সেটা প্রমাণ করলেন ক্রুনাল। রাহানেকে ফেরানোর পর ম্যাচে ফেরে আরসিবি। বৃষ্টির জন্য দীর্ঘক্ষণ ইডেনের পিচ ঢাকা থাকায় আদ্রতা ছিল। উইকেট থেকে কিছুটা সুবিধা পায় স্পিনাররা। গত মরশুমে ব্যাট করার সুযোগ পাননি। গোটা আইপিএলে মাত্র ১১৩ বল খেলেন। এবার সুযোগ ছিল রিঙ্কু সিংয়ের সামনে। কিন্তু ব্যর্থ। ১২ রানে ফেরেন। ব্যর্থ দলের সবচেয়ে দামী প্লেয়ার ভেঙ্কটেশ আইয়ারও। মাত্র ৬ রানে আউট হন। রাহানে আউট হওয়ার পরই কেকেআরের রানের গতি কমে যায়। রিঙ্কু, ভেঙ্কটেশ রান না পাওয়ায় সেই জায়গা থেকে রিকোভার করা সম্ভব হয়নি। ব্যর্থ আন্দ্রে রাসেলও (৬)। গুরুত্বপূর্ণ ৩০ রান যোগ করেন অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। ২০ ওভারের শেষ ১৭৪ রান কেকেআরের। জোড়া উইকেট নেন জস হ্যাজেলউড। তিন উইকেট ক্রুনাল পাণ্ডিয়ার। আরসিবিকে আটকাতে ভাল বল করতে হবে নাইটদের।
