আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্লাস্টার বোমা এক ধরনের বিস্ফোরক অস্ত্র যা আকাশ থেকে ফেলা হয় এবং এটি আকাশেই বা ভূমিতে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট বহু বোমায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি ক্ষুদ্র বোমাও বিস্ফোরণের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম। এটি একটি ‘এরিয়া ওয়েপন’, অর্থাৎ এটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নয় বরং একটি বড় এলাকার উপর আঘাত হানে।
ক্লাস্টার বোমা ফেলার পর একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় গিয়ে ফেটে যায় এবং ভেতরের ডজনখানেক থেকে শতাধিক ছোট বোমা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলি মাটিতে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে সমস্যা হল, এসব ছোট বোমার অনেকগুলি সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয় না, বরং ‘ডাড’ হয়ে থাকে, যা পরে সাধারণ মানুষের জন্য ভয়ঙ্কর বিপদ হয়ে দাঁড়ায়— বিশেষ করে শিশু ও কৃষকদের জন্য।
অনেক সময় দেখা গিয়েছে যুদ্ধে ব্যবহারের অনেক বছর পরেও না ফেটেছে এমন ছোট বোমার কারণে বহু নীরিহ লোকজন হতাহত হয়। ২০০৮ সালে গৃহীত কনভেশন অন ক্লাস্টার মিউনিশন্স চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বের বহু দেশ এই বোমার ব্যবহার, উৎপাদন ও মজুত নিষিদ্ধ করেছে। তবে আমেরিকা, রাশিয়া, চিনসহ কিছু দেশ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেনি।
কোন কোন যুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহৃত হয়েছে?
১. ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৫–১৯৭৫): যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যাপকভাবে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে। বিশেষ করে লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে এটি ব্যাপকভাবে ফেলা হয়, যার অনেকাংশ এখনও ফেটেনি।
২. খাদেজ যুদ্ধ (১৯৯১): পারস্য উপসাগর যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনী ইরাকে বিপুল পরিমাণ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে।
৩. কসোভো সংঘাত (১৯৯৯): ন্যাটো বাহিনী সার্বিয়ান অবস্থানে ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করে।
৪. লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধ (২০০৬): ইজরায়েল দক্ষিণ লেবাননে লক্ষাধিক ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদন উল্লেখ করে।
৫. সিরিয়া গৃহযুদ্ধ (২০১১): সিরিয়ান সরকার ও রাশিয়া বহুবার এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ।
৬. ইউক্রেন যুদ্ধ (২০২২): রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে ইউক্রেনকে এই অস্ত্র সরবরাহও করেছে।
ক্লাস্টার বোমা সামরিক দৃষ্টিতে কার্যকর একটি অস্ত্র হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি মানবিক প্রভাব ভয়াবহ। যুদ্ধ শেষ হওয়ার বহু বছর পরেও এর অনিবার্য ঝুঁকিতে পড়ে নিরীহ সাধারণ মানুষ। তাই বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই অস্ত্র নিষিদ্ধ করার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
