পুরোনো ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে বিকল্প চিকিৎসার শরণাপন্ন হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই চিকিৎসাই যদি সারা জীবনের যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়ায়? রাশিয়ার সাইবেরীয় অঞ্চলের ক্রাসনোয়ার্স্ক (Krasnoyarsk) শহর থেকে তেমনই এক শিউরে ওঠার মতো কাণ্ড সামনে এসেছে। পায়ের পুরোনো যন্ত্রণা থেকে নিরাময় পেতে এক নামী 'অক্যুপাংচারিস্ট'-এর কাছে গিয়েছিলেন এক প্রবীণ মহিলা। কিন্তু প্রথম সেশনের পরেই নিরাময়ের বদলে তাঁর কপালে জুটল এমন এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা, যা ভাবলেও গায়ে কাঁটা দেয়।

হাঁটাহাঁটির শক্তিটুকু হারিয়ে মারাত্মক যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে যখন তাঁকে হাসপাতালে ছোটানো হয়, তখন চিকিৎসকরা তাঁর পায়ের এক্স-রে করাতে বলেন। আর সেই এক্স-রে প্লেট দেখেই চক্ষু চড়কগাছ স্বয়ং চিকিৎসকদের!

এক্স-রে রিপোর্টে কী দেখা গেল? মহিলার পায়ের এক্স-রে রিপোর্টে স্পষ্ট দেখা যায়— মাংসপেশি ও রগের গভীরে বিঁধে রয়েছে একের পর এক অক্যুপাংচারের ছুঁচের ভাঙা টুকরো! একটি বা দুটি নয়, কমপক্ষে ১০টি অতি সূক্ষ্ম ও ধারালো ছুঁচের মুখ মহিলার পায়ের মাংসের মধ্যে এমনভাবে ঢুকে রয়েছে যে সামান্য নাড়াচাড়াতেই তা স্নায়ুতে গিয়ে বিঁধছে। একটি মাত্র সেশনেই কীভাবে একজন স্বনামধন্য চিকিৎসকের হাত থেকে এতগুলো ছুঁচ ভেঙে শরীরের ভেতর রয়ে গেল, তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না অভিজ্ঞ চিকিৎসকরাও।

 

আপাতত ক্ষতস্থানে যাতে ভয়াবহ কোনও সংক্রমণ না ছড়ায়, তার জন্য মহিলাকে হাই ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক এবং যন্ত্রণানাশক ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, যদি ওষুধে কাজ না হয় এবং পায়ের ফোলা ভাব না কমে, তবে খুব শীঘ্রই এক জঘন্য ও জটিল অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হতে হবে ওই মহিলাকে। শরীরের পেশি ও রগের এত গভীরে ছুঁচগুলো বিঁধে রয়েছে যে, সেগুলো কেটে বের করতে গিয়ে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এক বিরাট ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানসম্মত বা সঠিক ডিগ্রিহীন বিকল্প চিকিৎসকদের খপ্পরে পড়ে কীভাবে বহু মানুষ নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন, তার এক চরম ও নির্মম উদাহরণ এই ঘটনা। স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তর এই ঘটনাটিকে একটি জরুরি সতর্কতা হিসেবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন চটকদার চিকিৎসকের ফাঁদে পা না দেন।