আজকাল ওয়েবডেস্ক: গতকালই ইরানের উপর আবারও ভয়াবহ সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে শেষমেশ সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ইরানে হামলার আগে মার্কিন সিদ্ধান্ত বদলাতে নেতানিয়াহু নন। তাঁর মনোভাব বদলাতে অন্যতম বড় ভূমিকা পালন করেছে সৌদি আরব-সহ ওই অঞ্চলের কূটনৈতিক মিত্ররা।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এক্সিয়স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)-এর তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার তিনি নিজেই ট্রাম্পকে ফোন করে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি পরিকাঠামো বা তেল শোধনাগারে আঘাত হানা হলে ইরানও পাল্টা আঘাত হানবে। যার প্রভাব পড়বে আঞ্চলিক পরিস্থিতিতেও। যুবরাজের এই বার্তার পরেই হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প, এমনই জানা গিয়েছে।

 

তবে শুধু সৌদি আরব নয়। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক এবং পাকিস্তান ও আমেরিকা এবং ইরানকেই যুদ্ধাবসানের অনুরোধ জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যস্থতার জন্য ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির ও অন্যান্য আঞ্চলিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে আরাঘচি কড়া জানিয়েছেন, আমেরিকা বা ইজরায়েল কোনও আক্রমণ চালালে বা তাতে কোনও প্রতিবেশী দেশ সাহায্য করলে ইরান তার চূড়ান্ত জবাব দেবে।

 

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রে আঘাত হানার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি হওয়ায় সামরিক নির্দেশে সই করা থেকে বিরত থাকেন তিনি।

বর্তমানে কাতারের মধ্যস্থতায় হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ওমানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পথ সুগম করতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যা আপাতত এই সঙ্কট কিছুটা প্রশমিত করেছে।