আজকাল ওয়েবডেস্ক: পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন সেনা অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ধ্বংস কড়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনীই গুলি করে এই অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারটি ধ্বংস করেছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার ঘটনায় কোন দেশ জড়িত, সে কথা নিশ্চিত করতে পারেনি।
এ দিন সমাজমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, 'সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, যে ইরানি বাহিনী একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে নামিয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত হেলিকপ্টারে থাকা দুই পাইলটই অক্ষত রয়েছেন।'
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, 'হেলিকপ্টারে দু'জন পাইলট ছিলেন, তাঁরা দুজনেই সম্পূর্ণ নিরাপদ। কোনও আঘাত ছাড়াই বেঁচে গিয়েছেন। তা সত্ত্বেও, এই হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাল্টা পদক্ষেপ করার প্রয়োজন রয়েছে।'
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে। জানিয়েছে, স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে ওমান উপকূলে আঞ্চলিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
সামরিক বাহিনী এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও প্রকাশ করেনি। সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'সেনা সদস্যদের প্রায় দু'ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা গিয়েছে। বর্তমানে তারা স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।'
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এই প্রথম কোনও উদ্ধার অভিযানে মানুষের পরিবর্তে চালকহীন জলযান বা রোবোটিক সারফেস ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর 'কোরসেয়ার' নামক একটি স্বয়ংক্রিয় সারফেস ড্রোন প্রথমে সমুদ্রের জল থেকে ক্রু সদস্যদের খুঁজে বের করে। এর পর উদ্ধার করে অন্য একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাঁদের ওপরে তুলে নেওয়া হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র নেভি ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলটি কাছাকাছি হওয়ায় এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি থাকায় ওই ড্রোনটিকে উদ্ধার কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। ২৪ ফুট দীর্ঘ এই 'কোরসেয়ার' ড্রোনটি বিশাল পরিমাণ ওজন (পেলোড) নিয়ে দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে সক্ষম। এই ঘটনার পর অঞ্চলটিতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।















