সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রল করতে করতে হঠাৎই কি এমন কোনও খবর আপনার চোখে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে একটি নির্দিষ্ট দেশে পুরুষের সংখ্যা এতই কমে গেছে যে বাধ্য হয়ে একাধিক নারী একই পুরুষকে ডেট করছেন? ইউরোপের ছোট্ট দেশ লাটভিয়া সম্পর্কে এমনই একটি চাঞ্চল্যকর ও কৌতূহলোদ্দীপক দাবি বর্তমানে ইন্টারনেটে ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু এই দাবির পেছনে যে সত্যিটা রয়েছে, তা জানলে চমকে যাবেন!

মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু ভাইরাল পোস্ট এবং মিম থেকেই এই জল্পনার সূত্রপাত। যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, লাটভিয়ায় পুরুষের তীব্র ঘাটতির কারণে মহিলারা বাধ্য হয়ে একই পুরুষকে ভাগ করে নিচ্ছেন বা প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন। তবে জেনে রাখা ভাল, এই দাবির পেছনে কোনও সরকারি তথ্য বা প্রামাণ্য সামাজিক ব্যবস্থার সমর্থন নেই। এটি কেবলই সোশ্যালের পাতার এক অতিরঞ্জিত ও ভাইরাল প্রোপাগান্ডা।


ডেমোগ্রাফিক তথ্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, লাটভিয়ায় পুরুষদের তুলনায় নারীর সংখ্যা কিছুটা বেশি—যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৪ শতাংশ। কিন্তু এই লিঙ্গ অনুপাতের ব্যবধান রাতারাতি তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ সামাজিক, স্বাস্থ্যগত এবং জনসংখ্যা বিষয়ক কারণ।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভারসাম্যহীনতার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:


পুরুষদের কম আয়ুষ্কাল: নারীদের তুলনায় পুরুষদের গড় আয়ু কম হওয়ার প্রবণতা বিশ্বজুড়েই দেখা যায়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জীবনযাত্রা: হৃদরোগ, নানা ধরনের দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপানের মতো বদভ্যাস পুরুষদের গড় আয়ুর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বয়সের তারতম্য: বয়স্ক বা প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা যায়, কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের মৃত্যুর হার বেশি থাকে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও বাস্তবতা: 

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টতই জানিয়েছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে দাবি করা হচ্ছে মহিলারা বাধ্য হয়ে একই পুরুষকে ডেট করছেন, তা সমাজের আসল ছবিটা ফুটিয়ে তোলে না। হ্যাঁ, এটা সত্যি যে কোনো দেশে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি হলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গী খোঁজার পথ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে দেশের সিংহভাগ নারী একই পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে আছেন। এটি ইন্টারনেটের সস্তা অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।