আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন বাহিনীর ওপর সম্প্রতি হওয়া হামলার পাল্টা জবাবে এবার ইরানে নতুন করে জোরদার হামলা শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক আক্রমণের পরই ওয়াশিংটন এই কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে।

আমেরিকান সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়েছে, সম্প্রতি তাদের ওপর হওয়া আক্রমণের বদলা নিতেই এই পদক্ষেপ। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, “এবার আমাদের আঘাত হানার পালা, অত্যন্ত কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, মঙ্গলবার থেকে ইরানের দক্ষিণ অংশজুড়ে দফায় দফায় জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে।

কেশম দ্বীপ, বুশেহর প্রদেশ, আবাদান শহর, বন্দর আব্বাস, কিশ শহর এবং আবু মুসাতেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে।

ইরানে বোমাবর্ষণের ঠিক এক দিন আগেই ইরাক ভূখণ্ডে ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীদের নিশানা করে যৌথ সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন ও সৌদি আরব সেনা।

ইরানের সামরিক সংস্থা ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা জর্ডানের মার্কিন বিমানঘাঁটি ও একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, হরমুজ প্রণালীতে তাদের নির্দেশ অমান্য করে যাওয়ার অভিযোগে তিনটি জ্বালানিবাহী তেল ট্যাংকারেও আঘাত হেনেছে তারা। এরপরই পাল্টা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও মার্কিন-ইজরায়েলি সংঘাত শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে এটি কয়েক ঘণ্টার বিষয় বলে দাবি করলেও, ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচ মাস পার হয়ে গিয়েছে। কয়েক দিন সাময়িক বিরতি এবং পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক আলোচনার জল্পনা থাকলেও পরিস্থিতি ফের ভয়াবহ মোড় নিয়েছে।

বর্তমানে সংঘাত কমার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং আমেরিকার নতুন এই পদক্ষেপে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ফের ডামাডোল।