আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুদ্ধবিমানের নতুন করে হামলার জবাবে শনিবার আমেরিকার দুই মিত্রদেশ- বাহরিন ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান। 

তেহরানের এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলি। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে পরোক্ষ আলোচনা চললেও, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামানো বা খনিজ তেল ও গ্যাস পরিবহণের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ আবার খোলার বিষয়ে কোনও রফাসূত্র মেলেনি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে তাদের বাহিনী ইরানের চারটি ড্রোন গুলি করে নামায়। এর পরই ইরানের উপকূলের রাডার ঘাঁটিগুলিতে পাল্টা হামলা চালায় মার্কিন সেনা। এর জবাবে শনিবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে।

সেন্টকমের দাবি, ইরান মোট সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর মধ্যে ছ’টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। ইরানের এই পদক্ষেপকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বলে তীব্র নিন্দা করেছে তারা। 

কুয়েতও জানিয়েছে, এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। হামলার সময় বাহরিনের রাজধানী মানামায় সাইরেনের আওয়াজের পাশাপাশি তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে, যেখানে গত বুধবার ইরানের ড্রোন হামলায় এক জনের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার জেরে প্রায় ১০০ দিন আগে এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও, মাঝে মাঝেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তা ভেঙে যাচ্ছে। আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলার কড়া সমালোচনা করেছে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক। এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে যেমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তেমনই দেশের মাটিতে আসন্ন নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই বলেন, “আলোচনা এখন আটকে রয়েছে, আর ট্রাম্পকেই এই জট কাটাতে হবে।” একই সঙ্গে আমেরিকার ব্যাঙ্কে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি দ্রুত ছেড়ে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। তবে ওয়াশিংটন অবশ্য উল্টো পথেই হাঁটতে চাইছে। ইরানের ওই অর্থ তারা ব্যবহার করতে পারে মিত্রদেশগুলির ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠনের কাজে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যেকার এই চরম উত্তেজনা কমাতে এবং শান্তি ফেরাতে শনিবারই তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রী মহসিন নকভি। দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার জন্য পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। অন্য দিকে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কারণে লেবাননও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। 

শুক্রবার লেবানন সরকার ইরানকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে নিষেধ করেছে। এরই মধ্যে শনিবার লেবাননের সেনাপ্রধান রডলফ হাইকাল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। মার্কিন-ইরান মধ্যস্থতায় পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠেছেন।

শনিবার লেবানন জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ইজরায়েলি বিমান হামলায় তাদের তিন সরকারি সেনার মৃত্যু হয়েছে। ইজরায়েলি সেনা অবশ্য জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল হিজবুল্লাহ, সরকারি সেনা নয়। এ ছাড়া সাকসাকিয়েহ এলাকায় ইজরায়েলি হামলায় দুই মহিলার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২২ জন।

অন্য দিকে, ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীও তাদের দুই সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সব মিলিয়ে, এপ্রিলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি লেবাননে রক্তক্ষয় থামাতে পারেনি এবং এই সপ্তাহে প্রস্তাবিত একটি নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে হিজবুল্লাহ।