আফগানিস্তানে নারী স্বাধীনতার ওপর একের পর এক খড়্গ নামিয়ে চলেছে তালিবান প্রশাসন। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পর এবার সরাসরি কোপ পড়ল ঐতিহ্যবাহী বিয়ের অনুষ্ঠান ও রীতিনীতির ওপর! ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানে সামাজিক ও জনজীবন নিয়ন্ত্রণের নতুন নতুন নিয়ম চালু করে চলেছে তালিবান। নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রকাশ্য স্থানে উপস্থিতি এবং পোশাকের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার পর এবার সামনে এসেছে বিয়ের অনুষ্ঠান সংক্রান্ত কঠোর কিছু নিয়মের কড়াকড়ি। আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসা এই নতুন গুঞ্জন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে বহু ঐতিহ্যবাহী বিয়ের সাজসজ্জা এবং আচার-অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।


খবর, বিয়ের দিন কনেদের জন্য প্রথাগত মেকআপ বা রূপচর্চা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু রূপসজ্জা, রূপটান-ই নয়, সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার, ভুরু প্লাক করা কিংবা মেহেন্দি পরার মতো সাধারণ আচার-রীতিগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। এই নিয়মগুলি ব্যাপকভাবে বাস্তবায়িত হলে আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের চিরাচরিত রূপ চিরতরে বদলে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিয়ের অনুষ্ঠানে গান-বাজনা এবং নাচের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে খবর। এর আগেও বিভিন্ন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে গানের ওপর কঠোর অবস্থান নিয়েছিল তালিবান। এবার সেই একই ধারা দেখা যাচ্ছে বিবাহ উৎসবেও, যা প্রথাগত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধাক্কা।

 

ভাইরাল হওয়া খবর অনুযায়ী, বিয়ের মূল অনুষ্ঠানে কনে ও বর আর আংটি বদল করতে পারবেন না। এমনকি আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে বর ও কনেকে একসঙ্গে এক মঞ্চে বা একাসনে বসার অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না। তবে আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে বিয়ের রীতি ভিন্ন হতে পারে এবং এই নিয়মগুলির প্রয়োগও অঞ্চলভেদে আলাদা হতে পারে বলে জানাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।


আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের প্রবেশাধিকার, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান এবং জনবহুল স্থানে চলাফেরার স্বাধীনতার ওপর কড়াকড়ির বিষয়টি নিয়ে বরাবরই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে রাষ্ট্রসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। বিয়ের অনুষ্ঠানের ওপর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা সেই আন্তর্জাতিক বিতর্ককে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।