আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের। একেবারে সরাসরি 'খারাপ কিছু ঘটা'র হুঁশিয়ারি। সঙ্গেই তেহরানকে সময়সীমা বেঁধে দিল ওয়াশিংটন। একাধিক সর্বভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর তেমনটাই। 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে উল্লিখত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক চুক্তির জন্য একপ্রকার চাপ দিচ্ছেন। চাপ দিচ্ছেন তাঁর দেওয়া শর্তাবলী মেনে নেওয়ার জন্য এবং তারজন্য ইরানের উপর সীমিত সামরিক হামলার অনুমোদন দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।  ওই প্রতিবেদনে উল্লিখিত, প্রস্তাবিত পদক্ষেপে ইরানের নির্বাচিত সামরিক বা সরকারি স্থাপনাগুলিতে একটি সীমিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত, ট্রাম্প অনুমোদন দিলে কয়েক দিনের মধ্যেই এই ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে উল্লিখিত, ট্রাম্পের তৈরি বোর্ড অফ পিস-এর প্রথম বৈঠক ছিল গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার। ওই বৈঠকেই ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার পক্ষে আর গুরুত্বপূর্ণ বোঝাপড়ায় আসা সম্ভব নয়। তা প্রমাণীত গত কয়েকবছরেই। তারপরেই ট্রাম্প বলেন, এটাই সেই সময়, যখন গুরুত্বপূর্ণ বোঝাপড়ায় আসতে হবে দু'দেশকে।  সেখানেই ট্রাম্প বলেন, ইরান বোঝাপড়ায় না বসলে, খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে। বোঝাপড়ার জন্য, ১০ থেকে ১৫দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন বলেও খবর সূত্রের। 

 

অন্যদিকে, সূত্রের খবর, ইরানের উপর সম্ভাব্য হামলার জন্য ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে সম্মতি দিতে নারাজ ব্রিটেন। ব্রিটেনের তরফে মার্কিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলেই তথ্য। জানা গিয়েছে, এই প্রসঙ্গে, লন্ডনের যুক্তি,  এই ধরনের আক্রমণের অংশ হওয়া আসলে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমান। 

ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করছে। এসবের মাঝেই আমেরিকা, কিয়ার স্টারমারের সরকারের কাছে সুইন্ডনের কাছে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন দূরপাল্লার বোমা হামলার অনুমোদন চেয়েছিল। 

 

ব্রিটেনের সরাসরি আমেরিকাকে 'না' সিদ্ধান্ত, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসে স্থানান্তরের পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের উপর উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। উল্লেখ্য, ব্রিটেন মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তরের পরিকল্পনা করেছে। ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে দিয়েগো গার্সিয়াকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই দ্বীপপুঞ্জ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত। ওয়াশিংটন এই ঘাঁটিকে ইন্দো-প্যাসিফিক এবং মধ্যপ্রাচ্যের অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে। 

যদিও ট্রাম্প প্রশাসন, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, "অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং বিপজ্জনক সরকারের সম্ভাব্য আক্রমণ নির্মূল করার জন্য" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিয়েগো গার্সিয়া এবং আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে প্রবেশাধিকারের প্রয়োজন হতে পারে।