আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনি গ্রহের কাছেই বরফে ঢাকা উপগ্রহ এনসেলাডাস সম্পর্কে এক যুগান্তকারী তথ্য সামনে এনেছেন আন্তর্জাতিক গবেষকরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আকারে ছোট হলেও এনসেলাডাস মহাকাশে ৫ লক্ষ ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ সৃষ্টি করে।

ফ্রান্সের লাবোরাতোয়ার দ্য ফিজিক দে প্লাজমার গবেষক লিনা হাদিদের নেতৃত্বে এই গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং ইতালীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ ক্যাসিনি মহাকাশযানের ১৩ বছরের সংগৃহীত তথ্য।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: স্পেস ফিজিক্সে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এনসেলাডাসের দক্ষিণ মেরু থেকে নিরন্তর নির্গত হওয়া জলীয় বাষ্প ও বরফের ধূলিকণা মহাকাশে পৌঁছে বৈদ্যুতিকভাবে চার্জ হয়ে শনির শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফিল্ডের সঙ্গে মিশে যায়।

এর ফলেই সৃষ্টি হয় বিশাল আকারের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ। যা শনির চারপাশে এক জটিল জাল তৈরি করেছে। লিনা হাদিদ বলেন, ‘এনসেলাডাস তার জলীয় গিজারের জন্য বহুদিন ধরেই পরিচিত।

কিন্তু শনির উপর এই উপগ্রহের প্রকৃত প্রভাব এতদিন পুরোপুরি জানা যায়নি। ক্যাসিনির তথ্য আমাদের সেই ধারণাকেই আমূল বদলে দিয়েছে।’ গবেষকদের মতে, এই তরঙ্গগুলিকে ‘আলফভেন উইংস’ বলা হয়।

এগুলি শনির ম্যাগনেটিক ফিল্ড বরাবর ছড়িয়ে পড়ে এবং এনসেলাডাসকে শনির মেরুর সঙ্গে যুক্ত করে। শনির আয়নমণ্ডল এবং এনসেলাডাসের কক্ষপথ ঘিরে থাকা প্লাজমা টোরাসে প্রতিফলিত হয়ে এই তরঙ্গগুলি আরও জটিল কাঠামো তৈরি করে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, এনসেলাডাসের এই প্রভাব ৫,০৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর পর্যন্ত বিস্তৃত, যা উপগ্রহটির নিজস্ব ব্যাসার্ধের তুলনায় ২,০০০ গুণেরও বেশি। গবেষণার আর এক লেখক থমাস চাস্ট বলেন, ‘এই প্রথমবার প্রমাণ মিলল যে এনসেলাডাস একটি ক্ষুদ্র উপগ্রহ হয়েও গ্রহ-পর্যায়ের বিশাল আলফভেন তরঙ্গের উৎস হিসেবে কাজ করে। এই আবিষ্কার বৃহস্পতির বরফে ঢাকা উপগ্রহ কিংবা দূরবর্তী এক্সোপ্ল্যানেট নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।’

গবেষকরা ক্যাসিনি মহাকাশযানের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, মোট ৩৬টি ক্ষেত্রে এনসেলাডাস ও শনির মধ্যে ম্যাগনেটিক ফিল্ডের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

অনেক ক্ষেত্রেই এই সংকেত গবেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি দূরত্ব থেকে ধরা পড়েছে। লিনা হাদিদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের এনসেলাডাস অভিযানগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ২০৪০-এর দশকে পরিকল্পিত এনসেলাডাস অরবিটার ও ল্যান্ডার মিশনে এমন বৈজ্ঞানিক যন্ত্র থাকা প্রয়োজন, যা এই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভগুলি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।