আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ কিছুটা কাটল? একে অপরের ওপর হামলা চালানোর পর আপাতত শান্ত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান ও ইজরায়েল।
দুই দেশই জানিয়েছে, তারা এখন গোলাগুলি থামাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের খবর, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বার্তার পরেই সুর নরম করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ট্রাম্প তাঁর ‘পুরনো বন্ধু’ নেতানিয়াহুকে সাফ জানিয়েছেন, ইরানের ওপর আর হামলা চালালে আমেরিকা আর ইজরায়েলের পাশে থাকবে না।
অবশ্য আমেরিকায় নিযুক্ত ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েকিয়েল লাইটার এই চরম হুঁশিয়ারির কথা মানতে চাননি। তাঁর দাবি, সংবাদমাধ্যম পুরো বিষয়টিকে বাড়িয়ে বলছে। জানা গিয়েছে, দুই নেতার মধ্যে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনাই হয়েছে।
লাইটার বলেন, "গত ৪০ বছর ধরে তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব। বন্ধুদের মধ্যে একটু-আধটু মনমালিন্য বা তর্ক হতেই পারে।" তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের অনুরোধেই ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা কমাতে রাজি হয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্পও বোঝেন যে, দেশের গায়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়লে ইজরায়েল চুপ করে বসে থাকবে না। রাষ্ট্রদূতের কথায়, "আমেরিকা ও ইজরায়েল আসলে একসঙ্গেই কাজ করছে এবং দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়া খুব ভালো।"
এদিকে খবর, নেতানিয়াহুর ওপর ইদানীং বেশ বিরক্ত ট্রাম্প। তিনি আগেই ইরান ও ইজরায়েল- দুই পক্ষকেই যুদ্ধ থামানোর কথা বলেছিলেন। ট্রাম্পের মতে, কোনও "বোকামি" বাধা হয়ে না দাঁড়ালে এবার শান্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু করা সম্ভব।
যদিও ট্রাম্পের এই কথার পরেও নিজের জেদ ছাড়েননি ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ট্রাম্পকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন- "আত্মরক্ষার পুরো অধিকার ইজরায়েলের আছে। প্রয়োজনমত আমরা তাই করছি।"
এক ইজরায়েলি সেনা কর্তা জানিয়েছেন, "যতদিন দরকার" যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তাঁরা তৈরি। ইরানের নতুন তৈরি হওয়া বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তেল শোধনাগারে যে ইজরায়েল হামলা চালিয়েছে, সে কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।
পাল্টা সুর চড়িয়েছে ইরানও। ইরানের আধাসরকারি সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম’-কে এক সামরিক কর্তা জানিয়েছেন, তাঁরাও লম্বা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। দরকারে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এম বি গালিবফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের ওপর তাঁদের বিন্দুমাত্র ভরসা নেই। আর এই বিশ্বাসের অভাবই আগামী দিনে অশান্তি আরও বাড়িয়ে দেবে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ গালিবফ লিখেছেন, "কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি আর বাস্তবে বারবার তা ভেঙে দেওয়া- এই চেনা খেলা আমরা শেষ করে দিয়েছি। যতদিন না আপনাদের মন থেকে যুদ্ধ থামানোর আসল ইচ্ছে জাগছে, ততদিন ইরানের জবাব ঠিক এই রকমই কড়া হবে।"















