আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাফ 'না' জানালো ইরান। তেহরান ঘোষণা করল, তারা যুদ্ধ থামাতে রাজি হবে, যদি তাদের শর্তগুলো মেনে নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইরানের এক কর্মকর্তা প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, "ইরান যুদ্ধ তখনই থামাবে, যখন যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত তারা নিজেরা নেবে এবং তাদের সমস্ত সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে।" শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন ঘাঁটিতে তীব্র হামলা তারা চালিয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পাঁচটি শর্ত জানিয়েছে ইরান। সেগুলি হল-
১. অবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সব ধরনের হামলা ও সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।
২. ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনও যুদ্ধ বা হামলা হবে না, এমন কার্যকর করার সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৩. চলমান যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. শুধু ইরানের ভূখণ্ডে নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।
৫. হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রতিপক্ষকে প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে।
ইরানের ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একদিকে শান্তিপূর্ণ আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে অবাস্তব শর্ত দিচ্ছে।" অতীতের বিভিন্ন চুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি এও বলেন, এবার আর ‘ফাঁপা আশ্বাস’ বিশ্বাস করা হবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করে। এই হামলায় ইরানের প্রাক্তন শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে। সেদিন থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা শুরু হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।
বুধবার মধ্য এশিয়াতে চলা সংঘাত থামাতে বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন, যার লক্ষ্য যুদ্ধের ইতি টানা এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। এই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির মধ্যে রয়েছে—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও সামরিক পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা। এর বদলে আমেরিকা কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি সীমিত অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অনুমতি দিতে পারে। এমনকি ইরানের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে কিছু অর্থনৈতিক সহযোগিতার কথাও ভাবা হচ্ছে।
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলের কর্মকর্তারা, যারা এতদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন, তারা এই হঠাৎ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে বিস্মিত হয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইতিমধ্যেই মধ্য এশিয়াতে অতিরিক্ত প্রায় ১,০০০ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা এই মুহূর্তে সেখানে থাকা প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন সেনার সঙ্গে যুক্ত হবে।















