আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'শর্ত মানো, অথবা অশান্তি ভোগ করো'। আমেরিকার স্পষ্ট দাবি। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে জমে থাকা বরফ কি তবে গলতে চলেছে? এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। আবারও পাকিস্তানের মাটিতে মুখোমুখি বসতে পারে দুই শত্রু দেশ।
এ বার আলোচনার টেবিলে ফেরার আগে তেহরানের সামনে দু’টি কঠিন শর্ত ঝুলিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দু’দিনের মধ্যেই নতুন করে কথা শুরু হতে পারে। তাঁর দাবি, 'সঠিক জায়গা' থেকে তাঁর কাছে প্রস্তাব এসেছে এবং তাঁরা এখন সমাধানে পৌঁছতে আগ্রহী।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আলোচনার আগে আমেরিকা মূলত দু’টি বিষয়ে অনড়-
এক, পারস্য উপসাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কোনওভাবেই আটকানো যাবে না। তাদের সাফ কথা- ইরান যদি অন্যের জাহাজ আটকায়, তবে ইরানের কোনও জাহাজও ওই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।
দুই, ইরানের যে প্রতিনিধি দল আলোচনায় আসবে, তাদের হাতে যেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক শাখা 'রেভোলিউশনারি গার্ডস'-এর সবুজ সংকেত ছাড়া কোনও আলোচনাতেই বসতে চাইছে না আমেরিকা।
আসলে ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানের প্রশাসনের অন্দরে এখন তুমুল বিবাদ চলছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন নরমপন্থী গোষ্ঠী চাইছে আমেরিকার সঙ্গে কথা বলে দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে। কিন্তু তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কট্টরপন্থী সামরিক নেতারা। এমনটা শোনা গিয়েছে, আগের বারের বৈঠকে সেনার আপত্তিতেই কোনও সদর্থক উত্তর দিতে পারেননি ইরানের প্রতিনিধিরা।
গত সপ্তাহে রবিবার ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে এক দফা বৈঠক হয়৷ দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠক হয়। কিন্তু তাতে কোনও সমাধান মেলেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম দুই দেশ সরাসরি এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছে।
একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহের শেষে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে ফের ইসলামাবাদে মুখোমুখি হতে পারে দুই পক্ষ। বর্তমানে ওয়াকিবহাল মহলের একটাই কৌতূহল, আমেরিকার দেওয়া শর্ত মেনে তেহরান শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তির পথে হাঁটবে?















