আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানে আয়োজিত আমেরিকা ও ইরানের 'শান্তি বৈঠক' শেষ হয়েছে৷ কোনও সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে বৈঠক। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আজ থেকেই ফের যুদ্ধের দামামা বেজে উঠবে? তবে এখনই আশঙ্কার কালো মেঘ দেখছেন না কূটনীতিবিদরা।
পাকিস্তান সরকারের উচ্চপদস্থ সূত্রের খবর, কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হলেও দুই পক্ষের মধ্যে একটি অলিখিত 'সমঝোতা' বজায় রয়েছে। ৭ এপ্রিল থেকে যে ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, তা ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এই সময়ের মধ্যে কোনও পক্ষই সংঘাতে জড়াবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
আসলে এই মুহূর্তে পাকিস্তান অনেকটা ‘জামিনদার’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। একদিকে পারস্য উপসাগরে পাকিস্তানি সেনার সক্রিয় উপস্থিতি, অন্যদিকে আমেরিকার কূটনৈতিক চাপ- এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে তেহরান কার্যত কোণঠাঁসা। ২১ এপ্রিলের সময়সীমা পর্যন্ত ইরান তাই নতুন করে কোনও হঠকারিতা দেখাবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
গত ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদের এই ম্যারাথন বৈঠকে আমেরিকার হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরেও পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ এবং ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে দুই দেশ কোনও সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও মতপার্থক্য ঘোচেনি। ইরান পাল্টা শর্ত হিসেবে তাদের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরান ভালো করেই জানে যে ২১ এপ্রিলের পর আলোচনা আর না এগোলে সৌদি-পাকিস্তান সামরিক জোট আরও শক্তিশালী হবে। ইরানের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হানা জারি থাকলে পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। এতে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল যুদ্ধের আগুনে পুড়বে। ফলস্বরূপ ইরানের 'ভঙ্গুর' অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
আপাতত সৌদি আরব ধৈর্য ধরেছে আর ইরানও মেপে পা ফেলছে। পাকিস্তানকে সামনে রেখে আমেরিকা আসলে ইরানকে এক ‘অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির’ খাঁচায় বন্দি করে ফেলেছে। লক্ষ্য একটাই- আলোচনার সুযোগ জিইয়ে রেখে বড় সংঘাত এড়ানো।















