আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানকে সামরিক অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করার খবর বুধবার সরাসরি উড়িয়ে দিল চীন। পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধের আবহে এই অভিযোগকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে বেজিং।
চীনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান এদিন জানান, ইরানকে সামরিক মদত দেওয়ার যে খবর সংবাদমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, তা আসলে সাজানো গল্প। এ কথা সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন'৷
জানা গিয়েছে, ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’-এর একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর নজরদারি চালাতে ‘TEE-01B’ নামে একটি চীনা স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে তেহরান। সেই রিপোর্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ময়দানে নামে চীন।
অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি ওয়াশিংটনকেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেজিং। তারা জানিয়েছে, এই মিথ্যে অজুহাতে যদি আমেরিকা চীনা পণ্যের ওপর কর বাড়ায়, তবে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুপ করে বসে থাকেন নি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। এই ঘটনায় তিনি চীনের ওপরও বেজায় চটেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট হুমকি দিয়েছেন, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের প্রমাণ পেলে সে দেশের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি কর চাপানো হবে। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে চীন ইরানকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্টোদিকে, চীন নিজেদের ‘নিরপেক্ষ’ ভাবমূর্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন আপাতত এই যুক্তি দিতে পারে যে তারা ইরানকে কেবল আত্মরক্ষার সরঞ্জাম দিচ্ছে, যা রাশিয়ার মতো আক্রমণাত্মক সাহায্য নয়।
বিশেষজ্ঞ মহলের অনুমান, নিজেদের তেলের চাহিদার জন্য ইরানের ওপর নির্ভরশীল হয়েও আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক সংঘাতে যেতে চাইছে না বেজিং। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চীন ও আমেরিকার কূটনৈতিক লড়াইও বর্তমানে তুঙ্গে।
প্রসঙ্গত, 'শর্ত মানো, অথবা অশান্তি ভোগ করো'। আমেরিকার স্পষ্ট দাবি। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে জমে থাকা বরফ কি তবে গলতে চলেছে? এ বার এমনই ইঙ্গিত মিলছে। আরেক দফা পাকিস্তানের মাটিতে মুখোমুখি বসতে পারে দুই শত্রু দেশ।
এ বার আলোচনার টেবিলে ফেরার আগে তেহরানের সামনে দু’টি কঠিন শর্ত ঝুলিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দু’দিনের মধ্যেই নতুন করে কথা শুরু হতে পারে। তাঁর দাবি, 'সঠিক জায়গা' থেকে তাঁর কাছে প্রস্তাব এসেছে এবং তাঁরা এখন সমাধানে পৌঁছতে আগ্রহী।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আলোচনার আগে আমেরিকা মূলত দু’টি বিষয়ে অনড়-
এক, পারস্য উপসাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কোনওভাবেই আটকানো যাবে না। তাদের সাফ কথা- ইরান যদি অন্যের জাহাজ আটকায়, তবে ইরানের কোনও জাহাজও ওই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।
দুই, ইরানের যে প্রতিনিধি দল আলোচনায় আসবে, তাদের হাতে যেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক শাখা 'রেভোলিউশনারি গার্ডস'-এর সবুজ সংকেত ছাড়া কোনও আলোচনাতেই বসতে চাইছে না আমেরিকা।
















