আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের নতুন 'শান্তি আইন' এবং পরমাণু বিদ্যুতের প্রসার সংক্রান্ত বড় পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল এম গ্রোসি। ভারতকে অন্যতম প্রধান বিশ্বশক্তি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দিল্লির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। গ্রোসি ভারতের এই নতুন আইন নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন। 

এমন এক সময়ে গ্রোসির এই শংসাপত্র এল, যখন ভারত তার দীর্ঘমেয়াদি শক্তির প্রয়োজন মেটাতে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের জোগান নিশ্চিত করতে পরমাণু শক্তি উৎপাদন এক ধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে নেওয়ার পথে হাঁটছে। 

২০২৫ সালের এই 'শান্তি আইন' ভারতের পরমাণু নীতিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর উদ্দেশ্য আমজনতার উদ্বেগ দূর করা। আইনি জট কেটে যাওয়ায় এবার পরমাণু ক্ষেত্রে বেসরকারি পুঁজি ও প্রযুক্তির ঢল নামবে। একইসঙ্গে দেশের পরমাণু বিদ্যুতের গতি অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভারতের এই পদক্ষেপের প্রতি তাঁর সমর্থন জানিয়ে গ্রোসি বলেন, "আমি মনে করি এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এখন তাদের হাতে এমন একটি সুনির্দিষ্ট নীতি রয়েছে, যেখানে পরমাণু ক্ষেত্রের গুরুত্ব আগামী দিনে আরও বাড়তে চলেছে।" আইএইএ প্রধান স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, এই নতুন নীতির ফলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক আরও নিবিড় হবে।

তিনি যোগ করেন, "এর অর্থ হলো, আমরা ভারতের সঙ্গে আরও অনেক বেশি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চলেছি। আমি আগেও ভারত সফর করেছি, আবারও যাব। ফলে, এই সামগ্রিক উন্নয়ন আমাদের কাছে অত্যন্ত সুখবর।"

গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের এই পরমাণু অভিযান কেবল উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক শক্তি ক্ষেত্রকে বহুমুখী ও মজবুত করার এক সুপরিকল্পিত প্রয়াস। তাঁর কথায়, "শুধু পরমাণু বিদ্যুতের পরিমাণ বাড়ছে বলে নয়, এই পদক্ষেপ দেশের সামগ্রিক শক্তির উৎসকে বৈচিত্র্যময় করে তুলবে। জোগানকে আরও নির্ভরযোগ্য করবে।"

বর্তমানে ভারতে প্রায় দুই ডজন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রয়েছে। প্রায় ৮ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। তবে ২০৪৭ সালের মধ্যে এই উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে ১০০ গিগাওয়াট করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। 

যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলিতে পরমাণু কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অতি সম্প্রতি বারাকাহ, বুশেহর কিংবা ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়ার মতো পরমাণু কেন্দ্রগুলির ওপর হামলার ঘটনা বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের নিরাপত্তা জনিত ঝুঁকি কি শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশকে পরমাণু শক্তিতে বিনিয়োগ করা থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য করবে?

গ্রোসি এই উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন। গ্রোসি বলেন, "আমরা শুধু টুইট করেই খালাস হয়ে যাই না। ইউক্রেনের মতো যুদ্ধক্ষেত্রের একেবারে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে আমরা বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে কাজ করে চলেছি।"

ভারতের ক্ষেত্রে গ্রোসির এই 'শান্তি আইন' ও পরমাণু নীতির প্রকাশ্য সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ব পরমাণু শক্তির ভরকেন্দ্র হিসেবে ভারতের উঠে আসার লড়াইয়ে এটি আন্তর্জাতিক মহলের এক বিরাট সিলমোহর বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।