আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর মায়ের গর্ভে নয়, এবার থেকে একেবারে মেশিনের ভিতর জন্ম নেবে শিশু। চিনের বিজ্ঞানীরা তৈরি করছেন বিশ্বের প্রথম ‘গেস্টেশন রোবট’ বা কৃত্রিম গর্ভ। যা সম্পূর্ণ ন’মাসের মানব গর্ভধারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম। গুয়াংজু-ভিত্তিক কোম্পানি কাইওয়া টেকনোলজি এই প্রকল্পে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আছেন বিজ্ঞানী ড. ঝাং চিফেং, যিনি সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকও। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড রোবট কনফারেন্সে (আগস্ট ২০২৫) তিনি জানান, প্রযুক্তিটি ইতিমধ্যেই ‘পরিণত স্তরে’ পৌঁছেছে এবং শিগগিরই এক হিউম্যানয়েড রোবটের গর্ভে সংযোজন করা হবে।
এতে মানুষ ও রোবটের পারস্পরিক সংযোগের মাধ্যমে কৃত্রিম গর্ভে ভ্রূণ বেড়ে উঠতে পারবে। জানা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে প্রথম কার্যকর প্রোটোটাইপ বাজারে আসতে পারে, যার সম্ভাব্য দাম প্রায় ১ লক্ষ উয়ান (প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন ডলার)। কৃত্রিম গর্ভ মানুষের জরায়ুর মতোই পরিবেশ সৃষ্টি করবে। ভ্রূণ থাকবে কৃত্রিম অ্যামনিওটিক ফ্লুইডে ভেসে, আর খাদ্য ও অক্সিজেন যাবে টিউবের মাধ্যমে, অনেকটা নাভিরজ্জুর মতো। ২০১৭ সালে মার্কিন বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম তরলে প্রিম্যাচিউর মেষশাবক বাঁচিয়ে রাখার যে ‘বায়োব্যাগ’ পরীক্ষা করেছিলেন, তার ওপর ভিত্তি করেই এই প্রকল্প এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫% দম্পতির বন্ধ্যাত্ব সমস্যার সমাধান আনতে পারে এই আবিষ্কার। পাশাপাশি গর্ভধারণে অক্ষম বা ঝুঁকিপূর্ণ মহিলাদের জন্যও এটি হতে পারে আশীর্বাদ। তবে সমালোচকেরা সতর্ক করেছেন একাধিক নৈতিক সংকট নিয়ে।
তাঁদের প্রশ্ন, রোবটের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশু কীভাবে বাবা-মায়ের সঙ্গে বন্ধন গড়ে তুলবে? শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর উৎস কী হবে? যেসব শিশু জানবে তারা মেশিনে বেড়ে উঠেছে, তাদের মানসিক প্রভাব কেমন হবে? চিনে ইতিমধ্যেই এই নিয়ে তীব্র নৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘শিশুজন্মকে পণ্য বানিয়ে ফেলার’ আশঙ্কাও তুলেছেন অনেকে। এজন্য গুয়াংডং প্রদেশের প্রশাসন ড. ঝাংয়ের টিমের সঙ্গে মিলে আইন ও নীতিগত কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। বিজ্ঞানীরা একে দেখছেন প্রজনন বিজ্ঞানের বিপ্লব হিসেবে। তবে অন্যদের কাছে এটি এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের ছবি। প্রশ্ন উঠছে—এটি কি জীববিদ্যার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি, নাকি মাতৃত্বকেই মেশিনের হাতে তুলে দেওয়ার শুরু? ২০২৬ সালে যদি প্রকল্প সফল হয়, মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জন্ম নেবে এক শিশু, যার মা মানুষ নয়, হবে এক রোবট।
