আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় যুদ্ধ থামার আশা আপাতত শেষ হয়ে গেল। কুয়েতের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে আমেরিকা সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলি মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।

মার্কিন সেনার দাবি, কুয়েত লক্ষ্য করে ইরান দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা মাঝপথেই ভেঙে পড়ে। এ ছাড়া বাহরিনের দিকে ছোড়া আরও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তৎক্ষণাৎ রুখে দেওয়া হয়েছে।

একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের কুশম দ্বীপে প্রথমে আত্মরক্ষার্থে হামলা চালায় আমেরিকা। এর পরেই মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানার দাবি করে বিবৃতি দেয় ইরান।

অন্য দিকে, ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর’ (আইআরজিসি) ‘এমএসসি সারিস্কা’ নামের একটি মালবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওমান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে প্রথমে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা, এটি তারই বদলা।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক শুনানিতে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তাঁর দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার কারণেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

রুবিও বলেন, ‘‘অন্য কারও জাহাজ যদি বেরোতে না পারে, তবে ইরানের জাহাজও বেরোতে দেওয়া হবে না। যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলে দিত, তবে এই অবরোধের দরকার হতো না।’’ সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, ইরানের নৌবাহিনী এখন পুরোপুরি ধ্বংস এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব খারাপ।

কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই, ইরাকের বন্দর থেকে বেরোনোর সময় পারস্য উপসাগরে একটি মালবাহী জাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। পানামার পতাকাবাহী ওই জাহাজটিকে ‘আমেরিকান-জায়নিস্ট শত্রু’ আখ্যা দিয়ে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ওমান সাগরে ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলার বদলা নিতেই এই কাজ করা হয়েছে বলে দাবি আইআরজিসি-র।

বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ফিফথ ফ্লিট’ এবং কুয়েতে হামলার পর আরও বড় পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। এদিকে ইরানি বাহিনী স্পষ্ট বলেছে, ‘‘আমরা আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলাম যে নতুন করে কোনও হামলা হলে তার জবাব হবে আরও মারাত্মক। আমরা সেটাই করে দেখিয়েছি।’’

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আটকে থাকার মাঝেই এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। সূত্রের খবর, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দাবি মানতে চাননি। তাঁর দাবি, আলোচনা এখনও চলছে।

একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আমাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত কথা হচ্ছে- গত কয়েক দিন ধরে রোজই কথা হয়েছে, আজও হয়েছে। এই আলোচনার ফল কী হবে তা বলা যায় না। তবে ইরানকে আমি বলেছি, যেভাবেই হোক, চুক্তি করার এটাই সময়।’’

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার দাবিতে ইরান এখনও অনড় রয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই দাবি পূরণ হলেই একমাত্র আলোচনা এগোবে।