আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার বা রবিবারের মধ্যে ইরানে হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী। এমনই পরিকল্পনা ট্রাম্পের। ইরানের জ্বালানি ঘাঁটিগুলোতে হামলার বিবেচনা করা হয়েছে। এমন খবর জানতে পেরেই তেহরান পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিরকা বা ইজরায়েল নতুন কোনও হামলা চালালে মধ্য এশিয়াজুড়ে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করতে তেহরানও একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা 'অ্যাক্সিওস'-কে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি-সংক্রান্ত ঘাঁটিগুলোয় হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ইরানের সম্ভাব্য জ্বালানি লক্ষ্যবস্তুর তালিকা:

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা বা ইজরায়েল নতুন কোনও হামলা চালালে মধ্য এশিয়ায় তেল ও গ্যাসের ঘাঁটিগুলো অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইরান। প্রকাশিত নিশানায় তালিকায় রয়েছে সৌদি আরবের ঘাওয়ার তেল ঘাঁটি। ঘাওয়ার বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ৫ শতাংশেরও বেশি জোগান দেয়। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে আবকাইক ও খুরাইস তৈল ঘাঁটি। এগুলো থেকে প্রতিদিন ৭০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল উৎপাদিত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাকুম তেল ঘাঁটি এবং রুওয়াইস শোধনাগারের নাম উঠে এসেছে। রুওয়াইস শোধনাগারে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

ইরানের তালিকায় কাতারের নর্থ ফিল্ড এবং রাস লাফান-এর নামও রয়েছে। এই দু'টি জায়গা যৌথভাবে বিশ্বব্যাপী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

অন্যান্য যেসব জায়গার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কুয়েতের বুরগান তেল ঘাঁটি (যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়), বাহরাইনের সিতরাহ শোধনাগার ও আল-মিহাজ, এবং ইজরায়েলের লেভিয়াথান ও তামার গ্যাসের ঘাঁটি।

ইরানের সতর্কতা

ইরানের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, "আমেরিকার সম্ভাব্য যেকোনও বেপরোয়া পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার জন্য আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছি।"ওই কর্মকর্তা '৪০ দিনের যুদ্ধ'-এর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে, ইরান কাতারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস শোধনাগারে বোমা হামলা চালিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ট্রাম্প 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ক্ষমা চেয়েছিলেন।

ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা 'অ্যাক্সিওস'-কে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প আগামী দিনগুলোতে ইরানের জ্বালানি ও পরিকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনও নির্দেশ দেননি।

প্রস্তাবিত এই বোমা হামলার অভিযানের লক্ষ্য হবে- চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নার্কিন শর্ত মেনে নিতে ইরানকে চাপে ফেলা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, এই হামলাগুলোতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী সরাসরি জড়াতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতির এমন অবনতি ঘটলে তা সম্ভবত ইজরায়েলের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সূত্রপাত ঘটাবে।

ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই নতুন ঘটনাপ্রবাহ সামনে এল।